বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাসে আসছে পরিবর্তন
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে প্রার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতা যাচাই করতে বিসিএস সিলেবাসে সংশোধনী ও পরিমার্জন আনা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত পদ্ধতির বদলে ‘স্কিল-বেজড’ বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা বর্তমান কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গঠিত কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই বিসিএসের বর্তমান সিলেবাসে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন করা হবে। এর ফলে প্রার্থীরা কেবল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তাদের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার মাধ্যমে মূল্যায়িত হবেন।
আরও পড়ুনলিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই ‘যোগ্যতাভিত্তিক’ সাক্ষাৎকার পদ্ধতি চালু করা হবে। এই পদ্ধতিতে প্রার্থীর পুঁথিগত জ্ঞানের চেয়ে তার কর্মদক্ষতা, সঠিক মনোভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের মান বৃদ্ধিতে এই পরিবর্তন সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার বিষয়েও সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার লক্ষ্য স্থির করেছে যেন বিজ্ঞপ্তির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ৫০তম বিসিএসের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বিজ্ঞপ্তির সময়েই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক






