ভিডিও বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:২০ রাত

লালমনিরহাটের আরিফা এক অনুপ্রেরণার নাম

লালমনিরহাটের আরিফা এক অনুপ্রেরণার নাম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: জন্ম থেকেই দুই হাত অচল তবুও থেমে নেই পথচলা। হেঁটে চলার একমাত্র ভরসা পা-ই যেন হয়ে উঠেছে শক্তি ও সাহস। সেই পা দিয়েই এগিয়ে নিচ্ছেন জীবনের প্রতিটি ধাপ। অসংখ্য সীমাবদ্ধতার মাঝেও দমে যাননি।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন লালমনিরহাটের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফা খাতুন। যা এক অনুপ্রেরণার নাম। পা দিয়ে লিখেই এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া থেকে শুরু করে এখন মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন তিনি।

জানা যায়, আরিফা লালমনিরহাট পৌর এলাকার উত্তর সাপটানা শাহীটারী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৪৪ অর্জন করেন। পরে লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন আরিফা।

আরিফার মা মমতাজ বেগম জানান, পাঁচ সন্তানের মধ্যে আরিফা সবচেয়ে ছোট। জন্ম থেকেই তার দুই হাত অচল। দারিদ্র্যের কারণে যথাযথ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তবুও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। বাবা আব্দুল আলী একসময় শহরের ফুটপাতে তালা-চাবির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চার বছর আগে তিনি মারা যান।

অভাবের সংসারেও মেয়ের আগ্রহ দেখে পড়াশোনা করানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তার মা। বর্তমানে বাসায় টিউশনি করে মা-মেয়ের সংসার কোনো রকম চলছে। এসএসসি পেরিয়ে আরিফা ভর্তি হন মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগে অর্নাসে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন

শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে আরিফা শুধু একজন শিক্ষার্থী নন, বরং এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। পা দিয়ে তার লেখা এতটাই সুন্দর ও পরিপাটি, যা দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। প্রতিটি অক্ষরে ফুটে ওঠে তার অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস। আরিফার স্বপ্ন- লেখাপড়া শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়া এবং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী জীবন গড়া। পাশাপাশি তিনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও সমাজে অবদান রাখতে চান।

মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মাস্টার্স পরীক্ষার হলরুমে দায়িত্বে থাকা প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, আরিফাকে আমি প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে চিনি। সে অনেক মেধাবী ও অদম্য আত্মবিশ্বাসী। তা নিয়েই সে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সফলও হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ওই প্রভাষক। একই কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন প্রধান জানান, এরকম একজন প্রতিবন্ধী শারীরিক সমস্যায় ন্যুহ না হয়ে সে দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে চান। অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে সে তা প্রমাণ করেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন বলেন, এ ধরণের অদম্য শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা জরুরি। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। জীবনের প্রতিকূলতা যেখানে অনেককেই থামিয়ে দেয়, সেখানে আরিফা খাতুন বড় উধাহরণ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক সেবনকালে গ্রেফতার ৫

‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত কনকচাঁপা

লালমনিরহাটের আরিফা এক অনুপ্রেরণার নাম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ‘শোচনীয় পরাজয়’ ঘটেছে: রাশিয়া

তেলবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

বগুড়ায় ঢুকছে বিপজ্জনক নতুন মাদক আইস, কারবারি গ্রেফতার