ঝিনাইদহে বেড়েছে শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে বেড সংকট
ঝিনাইদহে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি হামেও আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। এতে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে, বেড সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডায়রিয়া। শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ৪০টি হলেও গতকাল ভর্তি ছিল ১১৫ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীদের ওয়ার্ডের ভেতরে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলোতে এত বেশি রোগী যে, পা ফেলার জায়গাও নেই।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সঙ্গে স্বজনদের ভিড়ও বেড়ে গেছে। এতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর মা জানান, তার ছেলে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে গ্রামে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আরেক শিশুর মা সাহেরা বেগম বলেন, হঠাৎ করে তার মেয়ের পায়খানা ও বমি শুরু হয়। গ্রামে চিকিৎসা করিয়েও কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে আনতে হয়েছে। বর্তমানে আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
আরও পড়ুনএদিকে, গ্রামাঞ্চলে হাম রোগে শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কনসালট্যান্ট ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা প্রথমে বাড়িতে বা গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করান, পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি শিশু অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালটির কনসালট্যান্ট ডা. আলি হাসান ফরিদ জানান, সেখানে ২৫টি বেড থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকছে। অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাম আক্রান্ত কয়েকজন শিশুকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক




_medium_1774948309.jpg)



