ভিডিও সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৫ দুপুর

বিশেষ কমিটির সভা

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, উঠবে না সংসদে

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, উঠবে না সংসদে, ছবি: সংগৃহীত।

গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। ফলে অধ্যাদেশটি আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। বিএনপি বলছে, অধ্যাদেশ ব্যবহার করে গণভোট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ ব্যবহার না থাকায় অধ্যাদেশটি পাসের প্রয়োজন নেই। এতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অবৈধ হবে না। সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াত।

গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের অন্তত ১৫টিতে নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়নি। সরকারি দল মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনতে চায়। এতে আপত্তি করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে জামায়াত। রোববার রাতে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি প্রতিবেদন দেবে সংসদকে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী ৩০ দিন, অর্থাৎ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে যাবে। 

গণভোট অধ্যাদেশ উঠছে না

গণভোট অধ্যাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট হয়। কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সভার পর আভাস দেন, গণভোট অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। অর্থাৎ, অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে। 

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গণভোট হয়ে গেছে। অধ্যাদেশটির আর সামনে কোনো ব্যবহার নেই। গণভোট অধ্যাদেশ সংবিধানের অংশ নয়। সংবিধানে না থাকলে গণভোট হবে না, সংবিধানে এমন বিধান নেই। গণভোট আয়োজনে একটি অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। গণভোট হয়েছে। এই অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়েছে। এর কোনো বিরোধিতা নেই। এই অধ্যাদেশকে সংসদে ধারণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহার করার আর কিছু নেই। 

সংসদে অধ্যাদেশটিকে অনুমোদন করা হবে কিনা— প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেছেন, সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। যেমন সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে প্রণীত অধ্যাদেশের ব্যবহার আগামী ১০ বছরে বা পরবর্তী জনশুমারি না পর্যন্ত লাগবে না। গণভোট অধ্যাদেশের আর ব্যবহার নেই। তাই অনুমোদন করার কিছু নেই। ব্যবহার হয়ে গেছে। অধ্যাদেশটিকে বিল আকারে এনে আইনে পরিণত করা, রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা হয়েছে। কতটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন হবে, তা ২ এপ্রিল জানা যাবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হুবহু পাস করা হবে। কিছু কিছু সংশোধনী আকারে উত্থাপন করা হবে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছু কিছু অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। পরবর্তী সময় বিল আকারে আনা হবে। বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, তা যথাযথভাবে থাকবে প্রতিবেদেন। 

আরও পড়ুন

বিরোধীদের দ্বিমত

কমিটির সদস্য জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথক্করণের মতো ১৫টি অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। রোববার ২২টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৫টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। সরকারি দল সংখ্যার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম—খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণ করতে চাচ্ছেন। 

বিচারপতি নিয়োগের কাউন্সিল গঠনের অধ্যাদেশ বিএনপি রহিত করতে চাচ্ছে বলে দাবি করেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।

গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পুরো জাতি গণভোটে অংশ নিয়েছে। সরকারি দল এটি বাতিলের কথা বলছে, যা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে। সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে— এটাই মূল দাবি।

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০—১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। 

বিশেষ কমিটির তৃতীয় দিনের সভা সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে তিন ঘণ্টা চলে। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন মজিবুর রহমান এবং জিএম নজরুল ইসলাম। কমিটির আমন্ত্রণে অংশ নেন জামায়াতের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, উঠবে না সংসদে

ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন 

১১৬ ডলার ছাড়াল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

সিঙ্গাপুর ম্যাচে নির্ভুল ফুটবল চায় বাংলাদেশ

হামের লক্ষণ শুরু হলে করণীয় কী?

বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান সরকার