ভিডিও মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪৩ রাত

অগ্নিঝরা মার্চ

কর্মী না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ থেকে অচল হয়ে পড়ে

সংগৃহিত,কর্মী না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ থেকে অচল হয়ে পড়ে

স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৭১ সালের ১১ মার্চ ছিল বৃহস্পতিবার। একাত্তরের অগ্নিঝরা এইদিনে মিছিল-সমাবেশে মুখর ছিল ঢাকাসহ সারা দেশ। স্বাধীন বাংলার দাবিতে অবিচল সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।

এদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, গণ অসহযোগ আন্দোলন এক নজিরবিহীন তুঙ্গে পৌঁছেছে জনগণের সংগ্রাম সফল করার উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত সকলকে কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলবে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির এক সভায় মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন জানানো হয়।গণআন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের একদিনের বেতন আওয়ামী লীগের ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গণহত্যার প্রতিবাদে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর পাকিস্তান সরকারের এক চিত্রপ্রদর্শনীতে যোগদানে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এ দেশের চিত্রশিল্পীদেরও সেখানে যোগদানে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

সংগ্রামী জনতা সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। সিলেটে রেশন নেয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে বাধা দেয়া হয়। যশোরে ও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। রাতে সামরিক কর্তৃপক্ষ ১১৪নং সামরিক আদেশ জারি করে নির্দেশ দেন যে, কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সম্পতির ক্ষতিসাধন করলে অথবা সশস্ত্রবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণের বা সেনাবাহিনীর গতিবিধিতে অন্তরায় সৃষ্টি করলে তাদের কার্যকলাপ আক্রমণাত্মক কাজের শামিল বলে গণ্য হবে, যা সংশ্লিষ্ট সামরিক বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।

কর্মী না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কুমিল্লা কারাগার থেকে পালাতে গিয়ে এদিন পুলিশের গুলিতে পাঁচ কয়েদি নিহত হয়। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে ২৪ কয়েদি পালিয়ে যায়, গুলিতে নিহত হন দুজন।

আরও পড়ুন

১১ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক ‘আঁতে ঘা’ শিরোনামে একটি প্রদিবেদন ছাপে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে করাচী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আহমদ আবদুল্লাহর পাঠানো তারবার্তার বরাতে লেখা হয়, পূর্ব বাংলা থেকে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা আর্থিক দুর্দশার সম্মুখীন। তিনি সরকারকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারি ও আধা সরকারি প্রায় সব কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। আদালত থেকে শুরু করে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাই স্বাধীনতার ডাককে সমর্থন করে কর্মস্থল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বের হয়ে আসেন। এটি ছিল পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ।

 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কর্মী না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ থেকে অচল হয়ে পড়ে

সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না বিরোধী দল: শিশির মনির

অভয়নগরে একাধিক মামলার পলাতক আসামি ১২ ককটেলসহ আটক

দিনাজপুরের বিরামপুর হাসপাতালে মিলছে না  জলাতঙ্কের টিকা

ইন্ডাস্ট্রিকে ‘ডাস্টবিন’ বললেন বগুড়ার নায়িকা অপু বিশ্বাস

টাঙ্গাইলে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত