ভিডিও বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৩ রাত

সিটি কর্পোরেশন ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন বগুড়ার মানুষ

সিটি কর্পোরেশন ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন বগুড়ার মানুষ

শাওন রহমান : পথচলা থামল দেড়শ’ বছরের পুরনো বগুড়া পৌরসভার। প্রাচীন পুন্ড্র সভ্যতার এই লীলা ভূমিতে আবার নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে গত ২০ এপ্রিল এই শহরকে নগরের মর্যাদায় উন্নীত করেন তিনি।

এখন শুধু গেজেট প্রকাশ বাকি। যে অঞ্চলটি তার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর উৎপাদন-উন্নয়নে বাংলার জনপদে দীর্ঘকাল অবদান রেখেছে, সেই জেলাটি ছিল নানা কারণে বঞ্চনার শিকার। তবে এবার উত্তরের প্রাণকেন্দ্র এই জেলাকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

১৮৭৬ সালে ১ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বগুড়া পৌরসভা। ১৯৮১ সালে ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পাওয়া পৌর এলাকার সীমানা দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটারে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে প্রায় ৫৫ বর্গকিলোমিটার বর্ধিত এলাকায় ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয় দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা।

বিএনপি’র তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বগুড়ার সন্তান তারেক রহমান বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে রূপ দিতেই ওই পদক্ষেপ নেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও প্রতিহিংসায় বগুড়াবাসীর সে স্বপ্ন আর আলোর মুখ দেখেনি। সেই স্বপ্ন পূরণে আবারও আলোর দিশারী হয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচনের পর শহরজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতাও। অবকাঠামো, রাস্তা-ঘাট, জনবল, রাজস্বসহ এ শহরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বর্জ্যসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা। শহরের বুক চিরে করতোয়া নদী বয়ে গেলেও এখন তা মরা।

নর্দামায় পরিণত হওয়ায় নদীতেও প্রাণ ফেরানও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অপেক্ষা করছে। সিটি করপোরেশন হিসেবে দায়িত্ব ও সেবার পরিধি আগের থেকে অনেক বাড়বে। তবে নাগরিক প্রত্যাশাও তৈরি হবে আকাশচুম্বী। প্রস্তুতি নিয়েই সামলাতে হবে জনপ্রত্যাশার চাপ। কারণ, এ শহরের ঘুরে দাঁড়ানোর সাথে উত্তরের এগিয়ে চলাও নির্ভর করবে সমানতালে।

বগুড়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তরা বলছেন, বগুড়া উত্তরের প্রাণকেন্দ্র। ঢাকা-রংপুর সংযোগ মহাসড়ক, কৃষিখাত এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারি শিল্পসহ নানা কারণেই এই জেলা প্রাচীনকাল থেকেই তার ঐতিহ্য ও উৎপাদন ধরে রেখেছে। বহুবিধ বাণিজ্যিক এই হাবকে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা নানান উৎপাদনমুখী সম্ভাবনাকে আরও গতিশীল করবে।

আরও পড়ুন

তাদের মতে, এখন সরকারি বড় বড় অবকাঠামো, বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রকল্পসহ বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি ও তা কাজে লাগাতে হবে। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারসহ ই-কমার্স ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

তারা বলছেন, বগুড়া দই অনেক আগেই জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু তার আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ জেলার কৃষি পণ্য অনেক আগে থেকেই দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু চাহিদামাফিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা যায়নি।  কৃষিযন্ত্র, হালকা প্রকৌশল ও মাঝারি শিল্পের বাজার তৈরি হলেও ভারি শিল্পের জন্য যে পরিবেশ ও অবকাঠামো প্রয়োজন তারও ঘাটতি রয়েছে।

এসব পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কাজ দ্রুত হলে বগুড়াসহ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের যেমন উন্নয়ন ঘটবে তেমনি দেশের জিডিপিতেও তা বড় অবদান রাখবে। তারা মনে করছেন।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হওয়ায় এ অঞ্চলের অনেক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন হয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল যোগাযোগ স্থাপন কাজ, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরসহ শহরের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দিয়ে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

শিল্প ও অর্থনৈতিক জোন হিসেবে বগুড়াকে প্রতিষ্ঠিত করা গেলেই কেবল বগুড়াসহ এ অঞ্চলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার সুফল পাবেন বলে মনে করছেন উন্নয়নবিদরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ ২৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ

সিটি কর্পোরেশন ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন বগুড়ার মানুষ

নিখোঁজের ৩ দিন পর দুর্গম পাহাড় থেকে সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বগুড়ার শেরপুরে গৃহবধূর এডিট করা ছবি ও ভিডিও ফেসবুকের ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রামের ‘গুপ্ত’ স্লোগান নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল সংসদে

‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’