ভিডিও সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৭ রাত

ঠাকুরগাঁওয়ে আড়াই কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, দুই বছরেও ব্যবসা শুরু হয়নি

ঠাকুরগাঁওয়ে আড়াই কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, দুই বছরেও ব্যবসা শুরু হয়নি

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে নির্মিত আড়াই কোটি টাকার একটি আধুনিক বাজার ভবন দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে একদিকে ভবনের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সরকার।


স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কাঁচা-পাকা দোকানের মাঝখানে দুই তলা বিশিষ্ট ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নিচতলার ৩৪টি এবং ওপরতলার ২৪টি দোকানঘর এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি।

বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন। সাপ্তাহিক হাটের দিন রোববার কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও স্থায়ী দোকানগুলোতে নিয়মিত বেচাকেনা নেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের টাইলস ও দেয়ালে ধুলা জমেছে, কিছু অংশে ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারটি বহু বছরের পুরোনো। এখানে ধান-গম ও গবাদিপশুর বড় লেনদেন হয়। কিন্তু নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা সুবিধা পাচ্ছি না। দোতলার একটি দোকান বরাদ্দ পাওয়া ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রীর নামে ঘর নিতে এক লাখ টাকা জামানত দিয়েছেন। মাসিক ভাড়া এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো দোকান চালু করার বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পাননি। অন্য ব্যবসায়ী হালিম ও আবু হোসেনের অভিযোগ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাদের দ্রুত চালু করতে বলা হবে। প্রয়োজন হলে নোটিশ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন,  বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাজারটি চালু করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে আড়াই কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, দুই বছরেও ব্যবসা শুরু হয়নি

বগুড়ার নিউ মার্কেটের ব্যাবসায়ী রাশেদ গ্রেফতার

রংপুরের তারাগঞ্জে সরকারি কবরস্থানের গাছ বিক্রির অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে পরিত্যক্ত জমিতে পাঁচ স্তরের সবজি চাষ

বগুড়ার গাবতলীতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বগুড়ার শাজাহানপুরে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় ২ লাখ টাকা জরিমানা