একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির স্মৃতিবিজড়িত এক গৌরবময় দিন: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির স্মৃতিবিজড়িত এক গৌরবময় দিন। মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির স্মৃতিবিজড়িত এক গৌরবময় দিন। তিনি মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ অজানা শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তানের দুই অংশের ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার চেষ্টা করলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে জনগণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাঙালির জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার সংগ্রাম, যার চেতনা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম প্রেরণা যুগিয়েছে।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, যা জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম গৌরবময় অর্জন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান ধারক ও বাহক। শহিদদের রক্তে অর্জিত বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও মান রক্ষায় সবার দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে বাংলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা ধারণ করে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1771596454.jpg)


_medium_1771593585.jpg)
_medium_1771601274.jpg)
