ওষুধ সংকটে বঞ্ছিত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা প্রত্যাশীরা
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কয়েকমাস ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। জানা যায়, সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কয়েক মাস আগেও বিনামূল্যে জ্বর, সর্দি, কাশি ও মাথাব্যথাসহ নানা রোগ প্রতিরোধে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো জেলার এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে।
কিন্তু বর্তমানে জ্বর, পাতলা পায়খানা, হাঁচি-কাশি এবং এন্টিবায়েটিক ওষুধ সরবরাহ বন্ধ আছে। দেয়া হচ্ছে ২২ প্রকার ওষুধ, তাও সরবরাহ অনিয়মিত বলে জানিয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা।
তারা জানান, তাদের কমিউনিটি ক্লিনিকে শেষ ওষুধ এসেছিল গত বছরের আগস্টে। যা দিয়ে প্রায় ৩ মাস চালানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ৬ মাস পার হয়ে গেলেও ওষুধ সরবরাহ আসেনি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা।
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার মধূসুদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের লাইন। কাছে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলতেই তারা জানান, কয়েকমাস আগেও এখান থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সেরকম ভাবে আর ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।
মধূসুদনপুর গ্রামের আদরি খাতুন বলেন, বাড়ির পাশে এই কমিউনিটি ক্লিনিকে ভালোই চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। আগে কোন অসুখ হলে এখান থেকেই ওষুধ দেওয়া হতো, প্রয়োজন হলে বাইরের ফামের্সি থেকে দু-একটা ওষুধ কিনতে হতো। আর এখন প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনওষুধ সংকটের বিষয়ে মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নূর আলম বলেন, এই কমিউনিটি ক্লিনিকে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্তমানে ক্লিনিকে ওষুধের সরবরাহ কম এইজন্য আগের তুলনায় রোগী কমেছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জাকিয়া বলেন, প্রায় ২ মাস থেকে ক্লিনিকে কোন ওষুধ সরবরাহ নেই। কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধের সংখ্যাও জিরো। শুধু এখানে না, পুরো মোহনপুর থানাতেই একই অবস্থা। বাগমরা উপজেলার দক্ষিণ জামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিম হোসেন বলেন, এখানে যতগুলো রোগী চিকিৎসা নিতে আসে তার বেশিরভাগই অসহায়। আমরা চাই অতিদ্রুত সময়ের ভিতরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হোক।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহের সংকট কয়েকমাস থেকেই। অন্তবর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন থেকেই তারা নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের ভেতরেই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। আশা করছি তখন সংকট কেটে যাবে।
মন্তব্য করুন



_medium_1771342963.jpg)




