গাজায় ভয়াবহ ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার, বাষ্পীভূত দুই সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজা উপত্যকায় নিষিদ্ধ ও মানবতাবিরোধী হিসেবে বিবেচিত থার্মোবারিক অস্ত্র বা ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এর ফলে অন্তত ২,৮৪২ জন ফিলিস্তিনি মুহূর্তের মধ্যে বাষ্পীভূত হয়ে নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরায় সম্প্রচারিত ‘দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরি’ শীর্ষক এক বিস্তৃত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আলজাজিরা তদন্তমূলক প্রতিবেদন ‘দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরি’ অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার সিভিল ডিফেন্স টিম ২ হাজার ৮৪২ ফিলিস্তিনিকে নথিভুক্ত করেছে যারা ‘বাষ্পীভূত’ বা বিলীন হয়ে গেছে। তাদের রক্ত বা মাংসের ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া আর কোনও অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব অস্ত্র বিস্ফোরণের সময় কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সৃষ্টি করে, যা মানবদেহকে মুহূর্তের মধ্যে ভস্মে পরিণত করতে পারে।
এই সম্পর্কে ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, প্রতিটি হামলার পর ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়। কোনো বাড়িতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জেনে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় মরদেহ কম পাওয়া গেলে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কিছু না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেছেন, মানবদেহের বড় অংশই পানি। চরম তাপ ও চাপের ফলে দেহের তরল অংশ দ্রুত ফুটে উঠে টিস্যু বাষ্পীভূত হয়ে যেতে পারে।
অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কয়েক ধরনের বোমা ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, গাজায় ঘটে যাওয়া ব্যাপক ধ্বংসের ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলের ব্যবহৃত এমকে-৮৪ ও জিবিইউ-৩৯ বোমা জড়িত থাকতে পারে। এসব বিস্ফোরণে ভবনের কাঠামো আংশিক অক্ষত থাকলেও ভেতরের মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানায় সিভিল ডিফেন্স। বিভিন্ন হামলার স্থানে অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথাও তারা জানিয়েছে।
আরও পড়ুনআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দায় শুধু ব্যবহারকারী দেশের নয়, সরবরাহকারী দেশগুলোরও রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্য আলাদা করতে অক্ষম অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







