১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক চুক্তির পথে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র : জেলেনস্কি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আবুধাবিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কয়েক দফা আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানালেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব চুক্তির কিছু অংশ ইউক্রেনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে-জেলেনস্কি বলেছেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে তিনি এমন কিছু নথি দেখেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। তিনি এটিকে ‘দিমিত্রিয়েভ প্যাকেজ’ বলে উল্লেখ করেন। এই নামটি এসেছে কিরিল দিমিত্রিয়েভের নাম থেকে। দিমিত্রিয়েভ রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং নতুন করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি মস্কোকে যুদ্ধ থামাতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। তবে পুতিন স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ হোক বা না হোক, ইউক্রেনে রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জন করবেই।
আরও পড়ুনদিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে মিলে ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও ছিল। কিন্তু জেলেনস্কি, ইউরোপীয় নেতারা ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা দরকার। এতে রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং পশ্চিমা প্রযুক্তি পাওয়ার পথ বন্ধ হবে। আগামী জুনের মধ্যেই কি শেষ হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধআগামী জুনের মধ্যেই কি শেষ হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘তাদের সব দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পর্কে আমরা জানি না। তবে কিছু তথ্য আমাদের কাছে আসছে।’ এই বক্তব্যের লিখিত প্রতিলিপি শনিবার প্রকাশ করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমে এবং অন্য জায়গা থেকেও নানা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এসব চুক্তির কিছু অংশ ইউক্রেন-সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকতে পারে। যেমন আমাদের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তা।’ জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের সম্পর্কে আমাদের বাদ দিয়ে করা কোনো চুক্তি, এমনকি সম্ভাব্য চুক্তিও ইউক্রেন সমর্থন করবে না।’ জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে এ বছরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি, তারা তাদের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করবে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায়-নির্বাচন, সমাজের মনোভাবের পরিবর্তনে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কাছে নির্বাচন নিঃসন্দেহে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরল হওয়া যাবে না। তারা বলে, জুনের মধ্যে সব শেষ করতে চায়। আর যুদ্ধ সেভাবেই শেষ করতে তারা সবকিছু করবে।’
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







