ভিডিও শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের সর্বশেষ আপডেট ও ব্রেকিং নিউজ

০০ দিন
০০ ঘণ্টা
০০ মিনিট
০০ সেকেন্ড
বিস্তারিত দেখুন
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:১৬ বিকাল

নির্বাচনী ইশতেহার ও রাষ্ট্র সংস্কার: জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন ‘সামাজিক চুক্তি’র সন্ধানে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি একটি জাতির আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত পরীক্ষা। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— রাজনৈতিক দলগুলোর বর্ণিল ‘ইশতেহার’ কি কেবলই গালভরা বুলি, নাকি প্রকৃত রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, ইশতেহার হলো একটি ‘সামাজিক চুক্তি’। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এই চুক্তির বাস্তবায়ন সবসময়ই একপাক্ষিক। আমরা দেখেছি, গত কয়েক দশকে দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে বড় বড় সেতু বা রাস্তা বানাতে যতটা তৎপর ছিল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা বা দুর্নীতি দমনে ততটাই বিমুখ। তথাকথিত ৩০% থেকে ৬০% ইশতেহার বাস্তবায়নের যে পরিসংখ্যান আমরা দেখি, তার সিংহভাগই ভৌত অবকাঠামো। কিন্তু ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে যে, শুধু দৃশ্যমান উন্নয়ন নয়, জনগণের প্রকৃত মুক্তি আসে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে।

২০২৬-এর নির্বাচনী ময়দানে প্রধান দলগুলোর অবস্থান এখন ভিন্ন। বিএনপি তাদের ‘৩১ দফা’ দিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য ও সংসদীয় সংস্কারের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এই দলটি এবার কি পারবে তাদের ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে? অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের চিরচেনা আদর্শিক খোলস ছেড়ে একটি আধুনিক ও টেকনোক্র্যাটিক ইশতেহার নিয়ে হাজির হয়েছে। কর কমানো ও সুদমুক্ত অর্থনীতির মতো তাদের জনতুষ্টিবাদী প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বোদ্ধামহলে রয়েছে সংশয়। আবার রাজনীতির নতুন ময়দানে নামা এনসিপি বা তরুণ প্রজন্মের দলগুলো রেডিক্যাল রিফর্মের কথা বললেও, রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার বিশাল বোঝা বইবার সক্ষমতা তারা কতটা অর্জন করেছে, সেটিই দেখার বিষয়।

একজন সচেতন নাগরিকের জন্য এবারের ইশতেহার পাঠ করার পদ্ধতি হওয়া উচিত ভিন্ন। কোনো দল ‘বিনামূল্যে’ কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে প্রথমেই প্রশ্ন করুন— সেই টাকা আসবে কোত্থেকে? ইশতেহারে যদি আয়ের সুনির্দিষ্ট পথ আর বাস্তবায়নের সময়সীমা (ঞরসবষরহব) না থাকে, তবে ধরে নিতে হবে সেটি কেবলই ভোট ধরার ‘চমক’।

আরও পড়ুন

ইতিহাস সাক্ষী, সিঙ্গাপুর বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো আজ উন্নত হয়েছে কারণ তারা ইশতেহারকে পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে মেনেছে। আমাদের দেশেও কি সেই সংস্কৃতি শুরু হবে? জুলাই পরবর্তী সচেতন ভোটাররা এবার আর আবেগে নয়, বরং ইশতেহারের ব্যবচ্ছেদ করে তবেই ব্যালট পেপারে সিল মারবেন-  এটাই হোক ২০২৬-এর প্রত্যাশা ।।

লেখক

হাসান মো: শাব্বির
সাব-এডিটর, দৈনিক করতোয়া। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

নির্বাচনী ইশতেহার ও রাষ্ট্র সংস্কার: জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন ‘সামাজিক চুক্তি’র সন্ধানে

কারাগারে ভোট দিলেন সালমান-আনিসুল-পলকসহ ভিআইপি বন্দিরা

সাওমের মাসে অনৈতিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি

ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমোদন নেই : মা‌র্কিন দূতাবাস

বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে নাহিদ