ভিডিও বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের সর্বশেষ আপডেট ও ব্রেকিং নিউজ

০০ দিন
০০ ঘণ্টা
০০ মিনিট
০০ সেকেন্ড
বিস্তারিত দেখুন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:০৯ বিকাল

বরকতময় শা’বান মাস ও পুণ্যময় রজনী শবে বরাত

মহানবি হযরত মুহাম¥দ ( স:) দুয়া করেছেন,“আল্লাহুম্মা বারিক্ লানা ফি রজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগ্না রমাদ্বনা”-( হে আল্লাহ! তুমি রজব ও শা’বান মাসে আমাদের জন্য বরকত নাযিল কর এবং রমজান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছিয়ে দাও)। চন্দ্র মাসের হিসেব অনুযায়ী আরবি মাসের অষ্টম মাস শা’বান। শা‘বান আরবি শব্দ, এর অর্থ, বিস্তৃত হওয়া। আব্দুল কাদির জিলানী (র:) বলেন, কোন বান্দা যদি শা’বান মাসে বেশি বেশী ইবাদত-বন্দেগী করে আল্লাহর পক্ষ থেকে সে সম্মান,নেকি,আল্লাহর ভালোবাসা ও ইমানের আলো অর্জন করতে পারবে। শা’বান মাস সম্পর্কে মহানবি(স:) বলেন,শাবান আমার মাস আর রমজান আল্লাহর মাস। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা:) হতে বর্ণিত,রাসুল (স:) ইরশাদ করেন,রজবের ফযিলত সমস্ত মাসের উপর এমন,যেমন কুআনের ফযিলত সমস্ত কালামের উপর। শা’বানের ফযিলত সমস্ত মাসের উপর এমন, যেমন আমার ফযিলত সমস্ত নবিদের উপর।আর রমজানের ফযিলত সমস্ত মাসের উপর এমন, যেমন আল্লাহর ফযিলত সমস্ত মাখলুকের উপর। শাবান মাসের অধীক ফযিলতের কারণেই রাসুল (স:) এ মাসে অন্য মাসের তুলনায় বেশী রোযা রাখতেন। আয়িশা সিদ্দিকা (রা:) রাসুল (স:) কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি শা’বানে এত বেশী রোযা রাখেন কেন ? রাসুল (স:) বললেন,এ মাসে মালাকুল মাউতের নিকট সে সমস্ত লোকের তালিকা দেওয়া হয় যারা এ বছর মারা যাবে। সুতরাং আমি চাই যে,আমার মৃত্যুর পরোয়ানাটা এমন সময় লিখা হোক যে সময় আমি রোযাদার। শা’বান আরবি মাস সমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। শা’বান মাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তাৎপর্য ও ফযিলত পূর্ণ বিষয় হলো , ১৫ই শা’বানের পূণ্যময় রজনী। যাকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাত’, হাদিসের ভাষায়“লাইলাতুন্ নিস্ফি মিন্ শা’বান” এবং ফার্সিতে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। যার অর্থ হলো,মুক্তির রজনী। হযরত আলী (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল (স:) ইরশাদ করেছেন,“যখন অর্ধ শা’বানের রাত আসে তখন সে রাতে তোমরা জাগ্রত থেকে ইবাদত কর এবং পরের দিন রোযা রাখ। কেননা এ রাতে সুর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ তা’লা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অত:পর বলেন, আছে কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী ? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। আছে কোন জীবিকা প্রত্যাশী ? আমি তার জীবিকার ব্যবস্থা করে দেবো। আছে কোন বিপদগ্রস্ত ? আমি তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করে দেবো। এভাবে সুব্হিসাদিক পর্যন্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে।” ((ইব্নে মাজাহ্ ,পৃ: ৯৯ , হাদিস-১৩৮৮)। এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করার রাত, আল্লাহর কাছ থেকে চাওয়া-পাওয়ার রাত। দুনিয়ার মানুষের কাছে চাইলে মানুষ নারাজ হয়, যত চাইবে তত বেশী নারাজ হবে। আ

মাদের জীবন উৎসর্গিত হোক সে মহান রব্বুল আলামীনের জন্য, তিনি বান্দার প্রতি এতই মেহেরবান যে, চাইলে তিনি খুশি। আর না চাইলে তিনি নারাজ হন। সুতরাং এ রাতে বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, ঈমানদার মুরদেগানদের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে হবে, (পৃ:-০১) যাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহর কাছে আরাধনা ও কান্নাকাটি করতে হবে এবং সু ন্দর- সুখময় ও কল্যাণময় জীবনের প্রত্যাশায় আল্লাহর দরবারে দুয়া করতে হবে। আর পরের দিন রোযা রাখতে হবে।

১৫ শা’বানের রাত (১৪ শাবানের দিবাগত রাত) জেগে ইবাদত-বন্দেগী করা এবং ১৫ শা’বানের দিন রোযা রাখা দুটিই মুস্তাহাব আমল। শবে বরাত আসলে হালুয়া , রুটির প্রচলন,আতশবাজি ও পটকাবাজি এবং বিভিন্ন মসজিদে ঘুরে ঘুরে মিষ্টি, জিলাপি, বিরানি, হালুয়া- রুটি তালাশ করা নিঃসদেহে একটি রসম তথা কুসংস্কার এবং বাড়াবড়ি। এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বে ইসলাম ও মুসলমানদের বড়ই দুর্দিন চলছে। ইসলাম যেমন মজলুম তেমনি মুসলমান ও মজলুম। মুসলমান জুলুমের শিকার হচ্ছে কাফির-মুশরিক আর বেঈমানদের দ্বারা। আর ইসলাম জুলুমের শিকার হচ্ছে এক শ্রেণির  মুনাফিক নামধারী মুসলমানদের দ্বারা। যাদের আকিদা-বিশ্বাসের মাঝে রয়েছে ভ্রান্তি। মানুষ আজ ইসলামকে ঘষেমেজে নিজের সাথে ফিট করতে চাইছে। অথচ কর্তব্য হলো,নিজেকে ঘষেমেজে ইসলামের সাথে ফিট করা। ইসলাম যেটা বলে সে অনুযায়ী জীবন গড়া। নিজের মত অনুযায়ী জীবন গড়া যাবে না। ইদানিং কেহ কেহ প্রচার করছে ও বিভ্রান্তি ছড়া”েছ যে,শবে বরাত বলতে কুরআন হাদিসে কিছু নেই। এটাও আবার এক প্রকার বাড়াবাড়ি। কুআন কারিমের ২৫ তম পারা সূরা দুখানে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেন,“হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চই আমি এ কুরআনকে এক বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি। আমি তো সতর্ককারী।”( সূরা দুখান : ১-৩)। উক্ত আয়াতে“লাইলাতিম্ মুবারকাতিন” বলে শবে বরাতকে বু ঝানো হয়েছে এটাঁই হলো প্রসিদ্ধ তাবি’ঈ হযরত ইকরামা (র:) ও মুফা”িছরিনে কেরামদের এক জামাতের অভিমত। তাফসিরে রুহুল মা’আনী, তাফসিরে জালালাইন, তাফসিরে মা’রিফুল কুরআন,এবং হাদিসের কিতাব- বায়হাকি, ইব্নে মাজাহ্ ও মিশকাত গ্রন্থে শবে বরাতের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণনা আছে। সাহাবায়ে ক্বিরামদের মধ্যে হযরত আলী (রা:), হযরত আয়িশা (রা:), হযরত আবু হুরায়রা (রা:), হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা:), হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রা:) সহ দশ জনের বেশী প্রখ্যাত সাহাবি থেকে শবে রাতের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণনা আছে। আর উম্মতে ইজমা এ কথার উপর যে,‘সাহাবায়ে ক্বিরাম প্রত্যেকেই ন্যায়পরায়ণ’। সুতরাং, বর্ণনাসূত্র যদিও কিছুটা দুর্বল হয়,তথাপি তা ফযিলত প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ ও সহিহ্ আমল করার তৌফিক দান করুন।আমিন।। 

লেখক:

আরও পড়ুন

মাওলানা মোহাম্মদ আবু জাহের

 ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট,
সিনিয়র শিক্ষক, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।
খতিব, মদিনা মসজিদ,কলেজ রোড, বগুড়া সদর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচন উৎসবমুখর হবে, কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নারীদের হেনস্থা করলে এখন থেকে কঠিন জবাব দেওয়া হবে : গোলাম রব্বানী

বগুড়ার শাহজাহানপুরে বিদেশি রিভলভারসহ গ্রেফতার ১

সৌভাগ্য ও পুণ্যময় রজনি শবে বরাত

বরকতময় শা’বান মাস ও পুণ্যময় রজনী শবে বরাত

ভারতে হিন্দু-মুসলিম প্রেমের জেরে যুগলকে হত্যা