বোয়িং থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ কেনার জন্য তৈরি ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে সে দেশের বোয়িং কোম্পানির উড়োজাহাজ কিনতে ভারত সর্বোচ্চ ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্ডার দিতে প্রস্তুত। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হয়।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পীযূষ গয়াল বলেন, বোয়িং উড়োজাহাজের জন্য এখনো আনুষ্ঠানিক অর্ডার দেওয়া হয়নি, তবে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। কেবল উড়োজাহাজের চাহিদাই প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের। এর সঙ্গে ইঞ্জিন ও খুচরা যন্ত্রাংশ যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ খাতে ভারতের আমদানি ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
পীযূষ গয়াল জানান, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় নির্দিষ্ট কোনো বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনবে। পাশাপাশি রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবে এবং কৃষিসহ সংবেদনশীল বাজার খুলে দেবে ভারত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা ভারতের মন্ত্রী পীযূষ গয়ালও জানালেন।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুল্ক কমানোর বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের উল্লেখ করা অন্য শর্তগুলো প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।
আরও পড়ুনবিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে পারে ভারত। তবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। ২০২৫ অর্থবছরে ভারত মোট পণ্য আমদানি করেছিল ৭২০ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ওই অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি ছিল ৯৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
পীযূষ গয়াল জানান, আগামী ৩–৪ দিনের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবে, যেখানে বাণিজ্যচুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হবে। এরপর ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবে। তখন ভারতে প্রবেশ করা মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্কছাড় কার্যকর হবে।
চুক্তির বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না করায় ভারত সরকার বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, সরকার শুল্ক ইস্যুতে আপস করেছে।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








