দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুলভাবে রোগী ভর্তি ও দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগে হুমায়ুন কবির (৩৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় হুমায়ুন কবিরকে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি রোগী হওয়া সত্বেও কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান সিনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে তাকে ওয়ার্ডে নেওয়া হলেও এক ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো চিকিৎসক বা নার্স রোগীর কাছে যাননি। চিকিৎসাহীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোগীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই হারুনুর রশিদ বলেন, রোগীর অবস্থা জরুরি হওয়া সত্বেও সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই তাকে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ইমারজেন্সি থেকে ওয়ার্ডে নেয়ার পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো ডাক্তার বা নার্স রোগীর কাছে আসেননি।
এ বিষয়ে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, সবকিছু ঠিক থাকার পর রোগীকে আমি ভর্তি করি। কিন্তু ওয়ার্ডে নেয়ার পর চিকিৎসা কতটুকু নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেটা আমার বোধগম্য নয়। পরবর্তীতে বিষয়টি কতদূর কী হয়েছে, তা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো জানেন।
আরও পড়ুনজরুরি বিভাগের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিয়ম তালুকদার বলেন, এই রোগীকে এখানে ভর্তি করার কোনো সুযোগ ছিল না। সরাসরি উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা প্রয়োজন ছিল। ভুলভাবে ভর্তি করানোর বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি, তাই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনায় আমি মর্মাহত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, এই রোগীকে এখানে ভর্তি করার কোনো সুযোগ ছিল না। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুলবশত রোগী ভর্তি করেছেন এবং বিষয়টি আমাকে বা অন্য কোনো মেডিকেল অফিসারকে জানাননি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মেডিকেল স্টাফ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন







