ভিডিও শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫১ রাত

অনেকেই ফিরেছেন লাকরি ও বৈদ্যুতিক চুলায়

বগুড়াসহ সারাদেশে এলপিজির সংকট কাটেনি

বগুড়াসহ সারাদেশে এলপিজির সংকট কাটেনি

স্টাফ রিপোর্টার : দুই সপ্তাহ পরও বগুড়াসহ সারাদেশে এলপিজির সংকট কাটেনি। গ্যাস না পেয়ে অনেকেই ফিরেছেন লাকরির চুলায়। এছাড়াও বিদ্যুৎ চালিত চুলা কিনে রান্না করছেন বিল্ডিং বাড়ির বাসিন্দারা। নিত্য ব্যবহার্য অতি জরুরী এই পণ্যটির জন্য অনেকেই দোকানে দোকানে ঘুরছেন কিন্তু বেশিরভাগ দোকানে গ্যাস নেই লেখা দেখে বা শুনে ফিরে আসছেন।

অন্যদিকে সিলিন্ডার গ্যাস নির্ভর হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং ফাস্টফুড,  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। তারা বলছেন আরও এক সপ্তাহ এভাবে চললে দোকানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সংকটের মধ্যে যে একটা-দুটা কোম্পানি চার-পাঁচটা করে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে তাও ভোক্তাদের হাতে পৌছাচ্ছে বেশি দামে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর ১০ শতাংশের বেশি হারে দেশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশি আমদানি প্রয়োজন। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে এলপিজি আমদানি বেড়েছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন। কিন্তু গত বছর আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ টনে।

বছরের শেষ তিন মাসে আমদানির হার আরও কম হওয়ায় সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরও জানান, ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে এটি বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ কমে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে নেমেছে। ফলে বছরের শেষে যেটুকু মজুত থাকা উচিত ছিল, তা বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে এবং চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডারজাত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে বগুড়ার এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বড় বড় দোকান ছাড়াও পাড়ায় মহল্লার দোকান গুলোতে এই গ্যাস বিক্রি হতো। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ হলো বাজারে বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, ইনডেক্স,  ইউনিভার্সাল, নাভানা, জে এমআইসহ  ১৩ কোম্পানীর গ্যাস সরবরাহ একে বারেই নেই। অন্যদিকে বাকি কোম্পানীর  কিছু কিছু গ্যাস সরবরাহ করছে কোম্পানীর ডিলাররা।

যা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। তাও  বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে। জামিলনগরের বাসিন্দা রুহুল মন্ডল জানান, তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ১৭শ’ হাজার টাকায়। তবে বেশির ভাগ এলাকায় সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুজির পর গ্যাস পাওয়া যাওয়ায় দাম নিয়ে তিনি উচ্চবাচ্য করেননি।

দোকানিরা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটে বাজারে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। পরিবেশকেরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছে না। কোথাও দিনে যে ক‘টি সিলিন্ডার আসে, তা নিমিশেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এর মাঝেও অনেকে গ্যাস না পেয়ে  গালাগালি করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

নাম প্রকাশ না করা শর্তে চেলোপাড়ার এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন ক্রেতা তার দোকানে আসেন। এ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও এখন মানুষ আসছে গ্যাস সিলিন্ডারের খোঁজে। গত এক সপ্তাহে তিনি মাত্র ২৫ টি সিলিন্ডার পেয়েছেন। গতকাল শনিবার একটিও সিলিন্ডার পাননি তিনি।

জামিলনগরের একজন খুচরা বিক্রেতা  বলেন, এক মাস ধরে অনেক কোম্পানির সরবরাহ নেই। দুই একটা কোম্পানী মাঝে মাঝে  চার-পাঁচটা  সিলিন্ডার  সরবরাহ করছে। তাদের থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে ১৫শ’ থেকে ১৬ শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে দেশে কার্যত ২৩টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে। বাকি ১৩টি কোম্পানি আমদানি করতে পারেনি। আমদানি করা কোম্পানিগুলো হলো ওমেরা, টোটাল গ্যাস, ডেল্টা, ফ্রেশ, আই গ্যাস, যমুনা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি, সেনাকল্যাণ ও লাফস।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের বড় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে কেউ কেউ আগেভাগেই সিলিন্ডার কিনে মজুত শুরু করেন, যা সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।

এ বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, দেশে ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতে পারতো মাত্র সাত থেকে আটটি কোম্পানি। বাকি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন জটিলতার কারণে আমদানি করতে পারেনি। যে কারণেই বর্তমানের এই সংকট।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়াসহ সারাদেশে এলপিজির সংকট কাটেনি

জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন মুফতি আলী হাসান উসামা

বগুড়ার শিবগঞ্জে নারীকে উত্যক্তের ঘটনায় সংঘর্ষ দুই ছাত্রদল নেতা আহত

ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ঘোষণা বিটিএসের

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৪৮ জন গ্রেফতার

তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক