রংপুরে হারিয়ে যাচ্ছে উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের এক সময় অবাধ বিচরণ থাকলেও এটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। আগের মত চোখে পড়ে না এটি। শিকারী প্রাণী, পরজীবী ও বিভিন্ন রোগজীবাণুর কারণে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এছাড়া কৃষিকাজ, শিকার, মৎস্যনিধন, বাসস্থান সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিগত কয়েক দশক এদের সংখ্যা কমছে তবে এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি।
উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস সম্পর্কে জানা যায়, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস (বৈজ্ঞানিক নাম : আনাস একোইটা), কালদিঘেড়ি বা লেঞ্জাহাঁস নামও পরিচিত এটি। স্ত্রী হাঁস ডাকে প্যাঁক-প্যাঁক করে। অপরদিকে পুরুষ হাঁসের ডাক বাঁশির শিষের মত। ফলে সহজেই নারী-পুরুষের পার্থক্য বুঝা যায়।
উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস বড় আকারের হাঁস। স্ত্রী-পুরুষ দুই হাঁসেরই নীলচে-ধূসর ঠোঁট এবং ধূসর পা ও পায়ের পাতা থাকে। পুরুষ হাঁস দেখতে চমৎকার, চকলেট রঙা মাথার পেছন থেকে একটি সরু সাদা রেখা ঘাড় হয়ে সাদা দেহতল পর্যন্ত নেমে গিয়েছে। এছাড়া পিঠ দর্শনীয় ধূসর, বাদামি ও কালো রঙে চিত্রিত থাকে। স্ত্রী হাঁসের দেহে রঙের বৈচিত্র্য কম। দেহ অন্যান্য স্ত্রী হাঁসের মত মেটে রঙের।
আরও পড়ুনসম্প্রতি উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের ছবিটি রংপুরের তিস্তা নদী থেকে তুলেছেন ওয়াল্ড লাইভ ফটোগ্রাফার রংপুরের বিশিষ্ট কবি ও লেখক রানা মাসুদ। হাঁসটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস/কালদিঘেড়ি সুদূর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চল থেকে আসে এরা। এশিয়ার কিছু অঞ্চলেও পাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশে ততটা সুলভ নয় এটি।
উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস বিস্তৃত খোলা জলাশয় বা জলাভূমিতে বসবাস করে। সাধারণত পানি থেকে কিছু দূরে মাটিতে বাসা করে। পানিতে ভাসমান উদ্ভিদ এদের প্রধান খাদ্য। তবে প্রজনন মৌসুমে ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণীও খায়। অপ্রজননকালীনে এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, দলে অন্য প্রজাতির হাঁসও ঘুরে বেড়ায়। উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের কোন উপপ্রজাতি নেই।
মন্তব্য করুন








