হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীভাঙন কবলিত একটি এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট-বালু সরিয়ে সড়ক মেরামতের কাজ করেন। পরে ওই সড়কে ইট-বালু না থাকায় এনসিপির কয়েকজন কর্মী বিএনপির নেতারা ইট-বালু বিক্রি করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি বিএনপির সম্মানহানিকর দাবি করে তা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ভিডিওটি সরানো হলেও দুঃখ প্রকাশের দাবি ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এনসিপির যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা পিচঢালা রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপির নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে এনসিপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল লুট করা হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি। হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরাই প্রথমে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, রাস্তা সংস্কারের কাজ চলাকালে ভিডিও ধারণ করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় এবং প্রতিবাদ জানালে এনসিপির সমর্থকরা মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষ বাধে।
আরও পড়ুনএদিকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা রাস্তা কেটে ইট-বালু ও পিচ বিক্রি করছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে এনসিপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, বিএনপির সম্মানহানির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে, যার জেরেই এ সহিংসতা ঘটেছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







