ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩২ রাত

বগুড়াসহ ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জনপদ

বগুড়াসহ ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জনপদ

স্টাফ রিপোর্টার : পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর কনকনে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের বড় একটি অংশ। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) উত্তরের জেলা নওগাঁর বদলগাছিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসব অঞ্চলে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, জনপদ । কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে দিনের বেলাতেও মানুষকে গরম কাপড় পরে ঘরের ভেতর অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আরও বাড়তে পারে। তীব্র এই শীত সবচেয়ে বেশি বিপযস্তু হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ। ভোরবেলা যাদের রুটিরুজির সন্ধানে রাস্তায় নামতে হয়, সেই রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের অবস্থা শোচনীয়।

বড় শহরের রেলস্টেশন থেকে শুরু করে মফস্বলের ফুটপাত সবখানেই দেখা গেছে শীতে জুবু-থুবু শীতার্ত মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। মাঠে কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। উত্তরের জেলাগুলোতে তীব্র কুয়াশার কারণে বীজতলা ও রবিশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 
বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্র জানান,  সারা দেশের মত বগুড়ায় চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বগুড়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে  ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি। কয়েকদিন পর গতকাল রোদ ওঠায় সর্বোচ্চ দাপমাত্রা  আগের  দিনে চেয়ে ৭ ডিগ্রি বেড়ে ২৩ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে।

আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানিয়েছেন- প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু এ অঞ্চলের জনজীবন। এখানে কয়েকদিন থেকে তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির ঘরে। গতকাল তা  নেমে  এসেছে ৬ এর ঘরে। এটাই এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এদিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে শীতের প্রকোপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এদিকে কনকনে শীতের কারণে জবুথুবু হয়ে পড়েছে জনজীবন।

নেমে এসেছে তীব্র শীতের ভয়। আর খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। আজ বুধবার ভোর থেকেই কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। দশ হাত পর পর কোন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহগুলো চলাচল করছে।

শহরে লোক ও যানবাহন চলাচল অনেক কম। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন বুধবার সকালে নওগাঁয় তাপমাত্র রের্কড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও কয়েকদিন এ রকম থাকতে পারে। বর্তমানে নওগাঁর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর ৬ টায় জয়পুরহাটসহ পাশ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছীতে বছরের সবচেয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯ টাও তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকে। এ বছরের সবচেয়ে তাপমাত্রা আজ সর্বনিম্ন।

তবে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রোদের দেখা মিলেছে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কে ট্রাক চালক আপেল বলেন, কুয়াশা কমে না। সকালেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হয়েছে। হেড লাইটের আলোতে ঠিকমত দেখাও যায় না। এ অবস্থায় খুলনা থেকে লোর্ড করে জয়পুরহাট পর্যন্ত আসছি। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, কয়েকদিনের প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শীত বাড়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : পাঁচবিবি উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রক্ষার চেষ্টা করেও তেমন লাভ হচ্ছে না। ফলে ইরি-বোরো চাষ নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঠান্ডা ও কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢাকলেও কাজ হচ্ছে না।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন জানান, বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চারা হলুদ হলে ইউরিয়া সার, জিপসাম এবং গোড়া পচন দেখা দিলে স্প্রে করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: হাড় কাঁপানো শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের জনপদ।  আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪-৬ কিলোমিটার। এতে মানুষের স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হচ্ছে। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। বিশেষত চর এলাকাগুলোতে জনজীবন বিপর্যস্ত, শিশুরা ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছে ও কর্মহীনতা বাড়ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করছেন।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: গত মঙ্গলবারের রাতে স্মরণকালের কুয়াশা ছিল পঞ্চগড়ে। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশায় ঢেকে যেতে থাকে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, প্রান্তর। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে কুয়াশা এমন পর্যায়ে পড়ে যে, সামনে দুই হাত দুরের কোন কিছু দেখাই যাচ্ছিল না।

সেই সাথে সমানতালে চলে উত্তর দিক থেকে আসা হিম শীতল বাতাস। কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে সন্ধ্যার পরই ফাঁকা হতে থাকে বাজার-ঘাট। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত দুই দিনের তীব্র ঠান্ডা থেকে কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচে পঞ্চগড়ের শীতার্ত মানুষগুলো। যে যার মত করে চেষ্টা করে রোদে দাঁড়িয়ে শরীর উত্তাপ করার জন্য। তবে বিকেলে আবারও উত্তরের কনকনে হিমালয়ান বাতাস।

বিকেলে তিনটায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। তবে সন্ধ্যা ছয়টায় সেই তাপমাত্রা নেমে আসে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা আগের দিন ছিল ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচন কমিশনের আচার-আচরণ আমাদের কাছে পক্ষপাতিত্বমূলক মনে হচ্ছে সাদিক কায়েম

কমলো সোনার দাম

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হারের হেক্সা পূরণ

আমরা শিক্ষার্থীদের যে কমিটমেন্ট দিয়েছি তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি কাজ করবো: সাদিক কায়েম

শহীদ হাদির কবর জিয়ারতে অঝোরে কাঁদলেন জকসুর নবনির্বাচিত ভিপি

নরসিংদীতে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার