নতুন করে ১৩৫টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় যুক্ত করে ২৯৫টি ওষুধকে 'অত্যাবশ্যকীয়' ওষুধের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সেগুলো বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, একটি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছে যেখানে ২৯৫টি এবং উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আরও একটি দুটি ড্রাগের অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ এসেছে।
সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে ২৯৫ বা ২৯৬ টা ওষুধ হবে। এগুলোকে বলা হচ্ছে অত্যাবশ্যক ওষুধ।
তিনি আরও বলেন, গত তালিকার চাইতে এবারে ১৩৫-১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নতুনভাবে এবারের তালিকায়। মূল ব্যাপার হচ্ছে যে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ওষুধগুলো সরকার কর্তৃক একটি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হবে।
দাম কীভাবে বেঁধে দেওয়া হবে সেই ব্যাখায় তিনি বলেন, মূল ব্যাপার যেটা ঘটবে সেটা হচ্ছে যে এ অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর সবগুলোর মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। এ নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা আছেন তাদেরকে এ মূল্যে পর্যায়ক্রমে আসতে হবে। যারা ওপরে আছেন তাদেরকেও নেমে আসতে হবে, যারা নিচ থেকে যাবেন তারা ইচ্ছা করলে ওপরে উঠতে পারেন অথবা থাকবেন।
দাম নির্ধারণে পর্যায়ক্রমের চার বছর সময় দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
সায়েদুর রহমান বলেন, এই ওষুধগুলো বাংলাদেশের সাধারণভাবে আপনারা সবাই জানেন যে অত্যাবশ্যক ওষুধ মাত্রই এটা শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সব রোগ ব্যাধি চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। অতএব এ ওষুধগুলোর ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরাসরিভাবে বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা এবং ওষুধের প্রাপ্যতা ওপর প্রভাব ফেলবে। অতএব এটা একটা বলা যায় একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
এর বাইরে আরও এক হাজার ১০০ ওষুধ আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্য ঠিক করে না দিলেও একটা দামের পরিধি বেঁধে দেওয়া হবে বলেও সায়েদুর রহমান জানান।
তিনি বলেন, কোনো ওষুধ ১০-২০ টাকায় বিক্রি হলে সেটি ঠিক করা হবে ১৫ টাকায়।
এবং এর সঙ্গে যোগ-বিয়োগ ১৫ শতাংশ রেঞ্জ রাখা হবে। মূল্য নির্ধারণের নীতিমালারও অনুমোদন মিলেছে সভায়। দ্রুতই তা প্রকাশ পাবে। এটা করা হলে আর কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।