ভিডিও বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০৭ রাত

প্রথম ধাপের ভোটে ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয় পেলো সেনা সমর্থিত দল

ছবি: সংগৃহীত, প্রথম ধাপের ভোটে ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয় পেলো সেনা সমর্থিত দল

আন্তর্জাতিক ডেস্কমিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয় পেয়েছে সেনা–সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার সামরিক জান্তার অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেশের বড় একটি অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সত্ত্বেও সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এই নির্বাচন আয়োজন করেছে। সামরিক জান্তা এটিকে গণতন্ত্রে ফেরার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

কয়েকটি ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপের ভোট হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ফল প্রকাশ শুরু হয় এবং সোমবার প্রথম ধাপের পূর্ণ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের ১০২ আসনের মধ্যে ইউএসডিপি পেয়েছে ৮৯টি আসন, যা মোট আসনের প্রায় ৮৭ শতাংশ। বাকি আসনগুলো গেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দলের দখলে।

বিশ্লেষক ও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউএসডিপি কার্যত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি দল। দলটির শীর্ষ পর্যায়ে বহু সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-এর কাছে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে ইউএসডিপি। ওই নির্বাচনের ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সামরিক বাহিনী কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থান ঘটায়।

অভ্যুত্থানের পর অং সান সু চি ও এনএলডির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দল হিসেবে এনএলডিকে বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চি কারাবন্দি রয়েছেন।

আরও পড়ুন

সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ), আরাকান আর্মিসহ একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করেছে জান্তা সরকার। আগামী ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ এবং ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৫ শতাংশ আসন এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে নির্বাচনের ফল যাই হোক, রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর সামরিক বাহিনীর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

পশ্চিমা কূটনীতিক ও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থিরা এই নির্বাচন বয়কট করেছেন। তাদের দাবি, এটি সামরিক শাসনেরই ধারাবাহিকতা। তাদের মতে, এই নির্বাচন নতুন বোতলে পুরোনো মদ ছাড়া কিছু নয়।

অং সান সু চির কারাবন্দি থাকা, এনএলডির বিলুপ্তি, ভিন্নমত দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং সেনা–সমর্থিত দলের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে নির্বাচনটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ভোট প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। জান্তা কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, দেশের সব অঞ্চলে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি। ফলে বেশ কয়েকটি এলাকা ভোটের বাইরে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ জানুয়ারি বগুড়াসহ ৪ দিনের উত্তরাঞ্চল সফরে আসছেন তারেক রহমান

বগুড়ায় সরবরাহ না থাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট

বগুড়ায় শিক্ষাবর্ষ শুরুর সাতদিনেও ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বই পায়নি শিক্ষার্থীরা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

বগুড়ায় ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেফতার

ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল : সাদিক কায়েম