ভিডিও সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:২৮ রাত

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে প্রতিদিনই নামছে তাপমাত্রার পারদ

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে প্রতিদিনই নামছে তাপমাত্রার পারদ

করতোয়া ডেস্ক : নতুন বছরের শুরু থেকেই উত্তরাঞ্চলে শীত জেঁকে বসেছে। প্রতিদিনই যেন নামছেই তাপমাত্রার পারদ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জেলা ঈশ্বরদীতে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ওই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়া উত্তরের অন্যন্য জেলাগুলোতে তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়াসহ হিমেল হাওয়ায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে।

করতোয়ার প্রতিনিধিদের তথ্যে বিস্তারিত...

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : দুপচাঁচিয়া উপজেলায় তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট (হাঁপানি) সহ  নিউমনিয়া ও হৃদরোগের সংখ্যাও বাড়ছে। বয়স্ক ও শিশুরা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে বহিঃবিভাগে শীতজনিত কারণে ডায়রিয়া শ্বাসকষ্ট ও নিউমনিয়া রোগীর লম্বা লাইন। চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মেহেদী হাসান জানান, ডায়রিয়া, নিউমনিয়া, সর্দি-কাশি এগুলোই মূলত শীতজনিত রোগ। গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশায় আর ঠাণ্ডায় শীতকালীন এসব রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এবার শীতে শুধুমাত্র ডায়রিয়ায় ১৬২ জন রোগিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এর মধ্যে পুরুষ ৬২জন আর মহিলা ১শ’ জন। প্রায় শতাধিক শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রচন্ড শীতের কারণে স্ট্রোক ও হৃদরোগের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অপরদিকে শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ তেমন বের হচ্ছেন না। ভ্যান চালক হাফিজার রহমান জানান, মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় এই শীতে তাদের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যারা ভাড়া নিয়ে অটো-ভ্যান, অটো রিক্সা চালান তাদেরকে আরো দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শীতে নিউ মার্কেটের দোকান গুলো ছাড়াও ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রি অনেক বেড়েছে।

পাবনা প্রতিনিধি: দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

গতকাল রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত শনিবার ছিল ৯ ডিগ্রি এবং গত শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক সোহেল রানা জানান, শীতের কারণে হাসপাতালে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় রোগী নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৬০ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : শীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের সিরাজগঞ্জের মানুষ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস । যা রোববারের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম বলে জানিয়েছেন বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল।

যমুনাপারের জেলা সিরাজগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটি। ফলে মৃদু শৈতপ্রবাহ বয়ে চলেছে এ অঞ্চলে। কুয়াশা আর শীতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। কর্মদিবস হলেও শীতের কারণে কম সংখ্যক লোকই বাইরে বের হয়েছে। ফলে রিকশা, অটোরিকশা শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে বসে রয়েছে। নির্মাণ শ্রমিক, মাটিকাটা শ্রমিক, দিনমজুরেরা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।

আরও পড়ুন

এদিকে হাসাপতালগুলোতে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ ও শিশুরোগীদের ভিড় বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, তীব্র শীতে এ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বেশি। এই মৌসুমটায় শিশু-বৃদ্ধদেরকে সাবধানে রাখার কথা জানান তিনি।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : প্রচন্ড শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উল্লাপাড়ার জনজীবন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে এই জনপদ। সকালে গুড়ি গুড়ি শিশির ঝড়ছে আকাশ থেকে। সেই সঙ্গে উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে এখানকার মানুষ। উপজেলার করতোয়া নদীপাড়ের গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম, এনায়েতপুর, লক্ষ্মীপুর, চরসাতবাড়ীয়া, পূর্ব সাতবাড়ীয়া, বেতবাড়ী গ্রামের অভাবী পরিবারগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্বিষহ দিন কাটছে তাদের। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) উল্লাপাড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রেকর্ড করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, উল্লাপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : কাহারোলে পৌষ মাসের শেষের দিকে হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন ব্যাহত হয়ে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। শীতের দাপটে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজনগুলো অন্যের বাড়িতে কাজ কর্ম করতে না পারায় চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন তারা। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে পৌষ মাসের প্রচন্ড ঠাণ্ডা, হিমেল হাওয়া।

এর ফলে উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষজন ঘরের বাইরে কম বের হতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বাড়ি থেকে হাট-বাজার ও রাস্তাঘাটে বের হলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন শীত ও প্রচন্ড ঠাণ্ডার কারণে। এর ফলে সন্ধ্যার পর পর উপজেলার হাট-বাজার ও রাস্তার মোড়ে গড়ে ওঠা দোকানপাট গুলো জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে কয়েকদিন থেকে সারাদিন দেখা নেই সূর্যের মুখ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এই কনকনে ঠাণ্ডা ও হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় অনেকেই শীত নিবারণের জন্য খড়-কুটো জ্বালিয়ে নিবারণ করার চেষ্টা করছেন। সাদীপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সাদেকুল ইসলাম জানান, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর এই অঞ্চলে অত্যন্ত ঠাণ্ডার কারণে কৃষকরা জমিতে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেনা। আর সঠিক সময়ে চাষাবাদের পরিচর্যা না করতে পারলে ফসল ভালো হবে না বলে জানান।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: নবাবগঞ্জে শীতের কারণে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২ দিন ধরে সূর্যের কোন দেখা মেলেনি। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা বেশ কাহিল পড়েছে। হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। এদিকে শীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল ও অসহায় দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর পক্ষেও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতের কারণে কৃষকেরাও তাদের বোরো ধানের বীজতলার ক্ষতির আশংকা করছেন।

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : চিরিরবন্দরে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই শীতের দাপট চরম আকার ধারণ করেছে। কনকনে ঠাণ্ডা, ঘন কুয়াশা ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির মতো ঝড়ছে কুয়াশা। দুপুরের দিকে স্বল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমছে না।

আজ ৫ জানুয়ারি আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরের দিকে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। বেলা বাড়ার পর সূর্য উঁকি দিলেও ঠাণ্ডার অনুভূতি একই রকম থেকে যাচ্ছে। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। যা ঠাণ্ডার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে প্রতিদিনই নামছে তাপমাত্রার পারদ

১২ জানুয়ারি বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি ছাত্রদলের শ্রদ্ধা ও ফাতেহা পাঠ

তারেক রহমান এখন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক : দুলু

তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ