ভিডিও মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:১৩ রাত

এই অঞ্চলের মানুষ উচ্ছ্বসিত

১১ জানুয়ারি বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

১১ জানুয়ারি বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

রাহাত রিটু : আগামী ১১ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১৯ বছর পর বগুড়ায় আসছেন। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ায় এসেছিলেন। বগুড়ায় এসে ১১ জানুয়ারি তিনি প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গণ দোয়ায় অংশ নিবেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই দিন গণ দোয়ায় অংশ নিবেন এমন সংবাদ প্রচার হওয়ার পর বগুড়ার মানুষের মধ্যে অন্যরকম এক উন্মাদনা বিরাজ করছে।

১৯ বছরের বেশি সময় পর বগুড়ার ঘরের ছেলে বগুড়ায় আসছে এমন খবরে শিহরিত এবং উচ্ছ্বসিত এই জনপদের মানুষ। বগুড়ায় আগমনের মধ্যে দিয়ে তার ঘর থেকে বেরুনো শুরু হচ্ছে। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তিনি ছিলেন অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকে তিনি মুষড়ে যান।

সেখান থেকে শোক কাটিয়ে তিনি প্রথম সফর হিসেবে বগুড়ায় আসছেন। তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেয়ার পর আগেই তারেক রহমান রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান বেগম জিয়ার প্রচারণা কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারণা চালান। মূলত ২০০১ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় তার অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে। ২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

দলের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন।  সে সময় মূল সংগঠনসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ইত্যাদি আয়োজিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সেই সাথে তিনি মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। এই কর্মকান্ডের কারণে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মাঝে একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০৯ সালেল ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি নিয়মতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অপসারণ করে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় যার প্রধান ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সেনাপ্রধান ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ। ওই বছরের ৭ মার্চ একটি দুর্নীতি মামলার আসামি হিসেবে তারেক রহমানকে তার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।  তার বিরুদ্ধে আরও ১৩টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয় ও তাকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়।

তারেক রহমানকে আটকের পর তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। আদালতের নির্দেশে চিকিৎসকদের একটি দল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আদালতকে জানায় যে তারেক রহমানের উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তিযুক্ত। এই পর্যায়ে আদালত রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ শিথিল করে তা কমিয়ে ১ দিন ধার্য করেন ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের সাবধানতা অবলম্বনের আদেশ দেন।

এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে ঢাকার শাহবাগস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২০০৮ এর আগস্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে গতি লাভ করে। প্রায় আঠারো মাস কারান্তরীণ থাকার পর ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে সবগুলো মামলায় তারেক রহমান জামিন লাভ করেন ও তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশেষ কারাগার থেকে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেককে দেখতে যান। সেদিন রাতেই তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১৭ বছর ৩ মাস ১৪ দিন পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এবং বগুড়ায় আসছেন ১৯ বছর ১৮ দিন পর বগুড়ায় আসছেন।

আরও পড়ুন

তিনি সর্বশেষ বগুড়ায় এসেছিলেন ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর। গত বছরের ১৩ জুন যুক্তরাজ্য সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি দেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে এ বৈঠককে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানসহ বাংলাদেশে ফিরে আসেন, যার মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে তার প্রবাস জীবনের অবসান ঘটে।

তারেক রহমান বগুড়ায় আসছেন এই সংবাদে বগুড়ায় সাজ সাজ রব উঠেছে। বগুড়ার বিভিন্ন রাস্তা ও স্থাপনা ধোয়া মোছা চলছে। বগুড়া শহরের সার্কিট হাউসের সামনের ঘোড়ার ভাস্কর্য আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ধোয়া মোছা করতে দেখা গেছে। এছাড়াও অনেক সড়কে সংস্কার কাজ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে শহরের শাকপালা মোড়ে হাটার জায়গা সংস্কার করা হয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দলীয় কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে।

সভায় পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. মাহবুবর রহমান, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চাঁন, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সবেক এমপি জিএম সিরাজ, সাবেক এমপি আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, ফজলুলবারী তালুকদার বেলাল, সহিদ উন নবী সালাম, জাহিদ হোসেন হেলাল, মহিত তালুকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রেজাউল করিম বাদশা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় আসবেন এবং সম্ভবত বগুড়া সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে গণ দোয়া মাহফিলে অংশ নিবেন।

তিনি বলেন প্রচুর লোকসমাগম হবে এই কারণে সেন্ট্রাল স্কুলের মাঠ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বিএনপির সিনয়র যুগ্ম মহাসচির হওয়ার পর প্রথম বগুড়ায় আসার দিন বগুড়ায় ব্যাপক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিলো। সেদিন বিএনপির নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণ সংবর্ধনায় অংশ নিয়েছিলেন।

এবার দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ায় এলেও তাকে আনুষ্ঠানিক কোন সংবর্থনা দেওয়া যাচ্ছেনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর ঘটা করে কোন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার কাহালুতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত

ভেনেজুয়েলার পর এবার ট্রাম্পের নিশানায় যে ৫ দেশ

আলী’র উদ্যোগে মিশা, আসিফের উপস্থিতিতে শীতবস্ত্র বিতরণ

গোশতের রক্ত কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হবে কি?

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ ভারতীয় উপস্থাপিকা

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির মত বিনিময় সভা