ভিডিও সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪৬ রাত

পাবনার আত্রাই নদী গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন ও দোকানপাট, দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে

পাবনার আত্রাই নদী গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন ও দোকানপাট, দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি : দখল দূষণে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় প্রবাহিত আত্রাই নদী। ৯০ দশকে পালতোলা পণ্যবোঝাই সারি সারি নৌকা চলাচল করা স্রোতস্বিনী এখন শুধুই মরাখাল। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নদী সিকস্তি ও নদী পয়স্তি জমির জাল কাগজমূলে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ভবন ও আধাপাকা দোকান। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নদীর তলদেশ ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করায় ঐতিহ্যবাহী আত্রাই নদীর আয়তন নি:শেষ হওয়ার পথে।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নে ইছামতির স্রোত থেকে উৎপত্তি হওয়া আত্রাই নদী সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাসুমদিয়া ইউনিয়নের বাদাই নদীর সাথে মিলিত হয়ে যমুনায়। তবে নদীর বেশিরভাগ অংশই দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে স্থাপনা। পাবনা-ঢাকা ও কাজিরহাট-বগুড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত জেলার অন্যতম বানিজ্যিক এলাকা  কাশিনাথপুরের স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাশিনাথপুর ট্রাফিক মোড় থেকে কাশিনাথপুর হাটের শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার নদী দখল হওয়ায় নদীর কোনো অস্তিত্বই আর নেই। হাটের একাংশে নদীর মাঝখানে নির্মিত সেতুর দুইদিকে দুই পাশের পাকা সড়কের দু'পাশ ভরাট করে বহুতল ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মার্কেট, আবাসিক ভবন ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। যা এখনও নির্মাণাধীন। অন্যদিকে নদীর বন্ধ জলাশয়টি হাটবাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৯০ দশকেও বাঘুলপুর, বাদাই, ভাটিকয়া, সাগতা, রানীনগর, মাসুমদিয়া, আমিনপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম ছিল আত্রাই নদী। কিন্তু সে সবই এখন অতীত। নদীটি এখন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। সুজানগর উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নে সরকারি অর্থে আত্রাই নদীর ওপর সেতু ও সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তার দু’পাশ দখলের প্রতিযোগিতা লেগে যায়। আত্রাই নদী রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সচেতন মহল।

আরও পড়ুন

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবির জানান, একসময় এই নদীতে নৌকা ও লঞ্চ চলতো, বিচরণ করতো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আইন থাকলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও আইন প্রয়োগ না করায় নদীর বুকে নির্মাণ হয়েছে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। আবার কোথাও কোথাও নদী দখল করে ফসলের আবাদ করা হচ্ছে।

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, নদীর বিষয়টা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তারা যদি সহযোগিতা চায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলমকে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (কাশিনাথপুর উপ-বিভাগ) শাহাদাত হোসেন বলেন, আলোচনা পূর্বক এসব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ২০.০০ (বিশ) একর পর্যন্ত সরকারি বদ্ধ জলমহাল অনলাইনে ইজারার আবেদনপত্র আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে

ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি আশিক

সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

ভেনেজুয়েলা ‘কথা না শুনলে’ ফের হামলা : ট্রাম্প