বিরোধীদের সমাবেশের ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি, ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিরোধী দলগুলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রামলীলা ময়দান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ মিছিল করে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার কথা বিরোধীদের। এতে কয়েক লাখ মানুষের অংশ নেওয়ার আশা করছে তারা। সমাবেশের আগে এলাকায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যান ও লাঠি-ঢাল হাতে নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, বড় জমায়েতের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তন করা হবে।
দিল্লির মধ্য ও নতুন দিল্লি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন চার হাজারের বেশি সদস্য। মিছিলের পথসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। নিরাপত্তার জন্য ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তন করা হচ্ছে। যাত্রীদের আগেই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল গত মাসে ১ নভেম্বরের এই সমাবেশের ঘোষণা দেন। ‘চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে তিনি নির্বাচনী কারচুপি বন্ধের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বেণুগোপালের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী নির্ভয়ে এসব প্রশ্ন তুলে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুনগত মাস থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংগঠন ও তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপিকে সুবিধা দিতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে গেছেন এবং ৩ কোটি ভোটারের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বেশি বাদ পড়েছে। এসব ভোটার সাধারণত বিজেপিকে সমর্থন করেন না। তবে নির্বাচন কমিশন কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কমিশনের বক্তব্য, ভুল করে কারও নাম বাদ পড়লে তিনি আবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ নাকচ করেছে। দলটির দাবি, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সূত্র : রয়টার্স
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
_medium_1793513709.jpg)
_original_1793173573_medium_1793512081.jpg)

_medium_1793096743_medium_1793442950.jpg)
_medium_1793440838.jpg)
_medium_1793435094.jpg)
_medium_1793517216.jpg)
_original_1793181440_medium_1793516445.jpg)
_original_1790485455_original_1790657512_original_1791809174_medium_1793510192.jpg)