ভিডিও বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৫৪ পিএম

দুই কোটি টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ 

কুড়িগ্রামে চার খাদ্য কর্মকর্তার  বিরুদ্ধে দুদক’র মামলা

সংগৃহীত,কুড়িগ্রামে চার খাদ্য কর্মকর্তার  বিরুদ্ধে দুদক’র মামলা

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :  সরকারি চাল ও ধানের মজুতে অনিয়ম এবং দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যের খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে কুড়িগ্রামে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুড়িগ্রামে মামলাটি দায়ের করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটেছে। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। 

মামলার আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শরীফ আহমেদ, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: হালিমুর রহমান, কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হক ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো: হেলাল উদ্দিন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়া ধানের বিষয় রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় খামাল কার্ড, গুদাম রেজিস্ট্রার, সেন্ট্রাল লেজার ও গুদাম লেজারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে নথিভুক্ত মজুতের তুলনায় ৪২দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম পাওয়া যায়। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৮হাজার ৩১৮টাকা ৯৮পয়সা হিসেবে এর মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।

আরও পড়ুন

এছাড়া খলিলগঞ্জ ব্লকের গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে টিএফএস-৭ নম্বর ৭১১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪০ মেট্রিক টন ধানের বিল পরিশোধের তথ্য ছিল। যাচাইয়ে ১৯০ মেট্রিক টন ধান গুদামে পাওয়া গেলেও বাকি ৫০ মেট্রিক টনের সন্ধান মেলেনি। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য মেসার্স এলাহী অটোরাইস মিলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ওই মিল পরিদর্শন করলে মালিক মো: মুকুল সরকার জানান, তার মিলে কোনো ধান পাঠানো হয়নি।

একই গুদামের নথিতে থাকা আরও ৪৭১মেট্রিক টন ধানের বাস্তব মজুত বা সংগ্রহের পক্ষে সমর্থনকারী তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ধানের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা হিসেবে এসব ধানের মূল্য এক কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। চাল ও ধানের মজুত সংক্রান্ত এসব অসংগতির কারণে মোট ২ কোটি      ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া শিশু নিকেতন ব্লকের এসএফ-৩ নম্বর গুদামের পশ্চিম গেট সংলগ্ন স্থানে নথি বহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়। এ চালের সংগ্রহ, ওজন, মান, মজুত ও পরিবহন সংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য হিসেবে এর দাম ৬৯লাখ ৩৯হাজার ৯৫৯টাকা। গত ১২ জানুয়ারি চালগুলো জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহ সংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি ও ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি নথি বহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
                                                          

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে একেকজন ‘অ্যাম্বাসেডর’ হতে হবে

১

শরীয়তপুরের খালের পাড় থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

২

কুড়িগ্রামে চার খাদ্য কর্মকর্তার  বিরুদ্ধে দুদক’র মামলা

৩

পাবনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত পুনঃ অর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে টাউন হল সভা

৪

মুন্সীগঞ্জে অবৈধ ড্রেজার পাইপলাইন জব্দ

৫

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৮তম সভা অনুষ্ঠিত

৬