মোদীর বাসভবনের কাছে শতবর্ষী মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ। শতবর্ষী এ মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্বে ঘেরা মসজিদটি ঘিরে এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ, বন্ধ হয়ে গেছে যাতায়াতের পথও। এবার মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ দাবি করে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও)।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেয় ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, নোটিশে ছয় দিনের মধ্যে মসজিদটি খালি করতে বলা হয়েছে। মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় মোদী সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। অন্যদিকে, মসজিদটির ইমাম অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রয়েছে রেসকোর্স মসজিদ। এরপরও গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে মসজিদে নামাজ আদায় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যে মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুনএদিকে, রেসকোর্স মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এ জন্য সংগঠনটির পক্ষে মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এনডিএমসির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকাতেও মসজিদটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, দ্য হিন্দুস্তান গেজেট জানিয়েছে, মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। হারুনের দাবি, মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বোর্ড। এতে মসজিদে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে পানি আনতেও সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া, বিষয়টি আদালতে নিতে ওয়াক্ফ বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন হারুন। নিজেও আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বোর্ড নিজে আদালতে যায়নি, তাকেও অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ফলে, মসজিদটি রক্ষায় অসহায় বোধ করছেন হারুন। সূত্র : দ্য ট্রিবিউন, দ্য হিন্দুস্তান গেজেট
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
_medium_1792560419.jpg)


_medium_1792506761.jpg)


_medium_1792568259.jpg)

_medium_1792559896.jpg)