বগুড়ার সোনাতলায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে মরিচ চাষ
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ হচ্ছে মরিচ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমিতে মরিচের আবাদ ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জমিতে সারি সারি মরিচের গাছ, কোথাও পরিচর্যা, কোথাও আগাছা পরিষ্কার ও সেচের কাজ-সব মিলিয়ে কৃষিক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কম সময়ে ভালো আয় করার আশায় অনেক কৃষকই মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলায় চলতি বছর ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ২৫ হেক্টর। ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৩০ ভাগ জমিতে মরিচ রোপণ ও বপণ কাজ শেষ হয়েছে।
উপজেলার খাটিয়ামারী চরের বাসিন্দা মহসিন আলী আকন্দ, মির্জাপুর এলাকার এশারদ আলী, পাঠানপাড়া এলাকার আমিনুর মাস্টার, আতিকুর রহমান আতিক বলেন, কৃষকদের কাছে মরিচ শুধু রান্নার অপরিহার্য উপকরণ নয়, এটি আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাজারে সারা বছরই মরিচের চাহিদা থাকায় এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
সঠিক সময়ে জমি প্রস্তুত, উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মরিচ ক্ষেতে বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন চাষিরা। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরিচ চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে খরচ করতে হয়।
আরও পড়ুনআবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হলে ফলন ভালো হয়। তবে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা কিংবা পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে চাষের শুরু থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়।
এদিকে মরিচ চাষের সাথে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জমি পরিচর্যা, মরিচ তোলা, বাছাই ও বাজারজাতকরণের কাজে শ্রমিকদের প্রয়োজন হয়। এতে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে এ ফসল।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের মাটি মরিচ চাষের উপযোগী। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষক প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেন। মরিচের উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমনে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষক মরিচ চাষ শুরু করেছেন।
মন্তব্য করুন








