রোগী নিয়ে ভোগান্তিতে স্বজনরা
পাবনা মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও বহিঃর্বিভাগে হয়নি বিশ্রামাগার
পাবনা প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগে নির্মাণ করা হয়নি একটি বিশ্রামাগার। ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তার স্বজনরা। যুগের পর যুগ একটি পুরোনো ছোট ভবনে চলছে বহিঃর্বিভাগের কার্যক্রম। নেই বসার বা বিশ্রাম করার আলাদা কোনো ভবন। রোগী নিয়ে বহিঃর্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনও খোলা মাঠে আর গাছতলায় বসে থাকতে হয় স্বজনদের।
গত বৃহস্পতিবার পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আব্দুল লতিফের সাথে। তিনি জানান, মানসিক রোগে আক্রান্ত ছেলেকে চিকিৎসা করাতে এসেছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালে। গত মঙ্গলবার রওনা হয়ে পাবনায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যাওয়ায় পাননি রাত কাটানোর মতো জায়গা। পরে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় ছেলেকে নিয়ে রাত কাটান তিনি। এটা সীমাহীন কষ্ট আর দুর্ভোগ। সকালে আসেন বহিঃর্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে।
শুধু আব্দুল লতিফ-ই নন। তার মতো আরো শতাধিক মানুষকে একই ভোগান্তি পোহাচ্ছে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানসিক রোগী নিয়ে যান পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কেউ মধ্যরাতে, কেউ ভোররাতে পাবনায় পৌঁছে কাটাতে হয় দূর্বিষহ সময়। হাসপাতালের অভ্যন্তরে নেই থাকার বা বিশ্রাম করার মতো কোনো ব্যবস্থা। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনও খোলা মাঠে, গাছতলায় বসে থাকতে হয় তাদের।
আরও পড়ুনপাবনা মানসিক হাসপাতালের মনোরোগ চিকিৎসক সামিনা আক্তার বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বা তার স্বজনদের বিশ্রাম বা থাকার ব্যবস্থা নেই স্বীকার করে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক মনোরোগ চিকিৎসক একেএম শফিউল আযম বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের রূপান্তর করার চিন্তা করছে সরকার।
সেই প্রকল্পে একটা আলাদা ওয়ার্ডই থাকবে যেখানে রোগীরা থাকবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে রোগীরা ভর্তির সুযোগ পাবে। আর রোগীর স্বজনদের জন্য আলাদা হলরুম বা ডরমেটরী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন

_medium_1791552913.jpg)






