বগুড়ার সোনাতলায় বালু তোলায় হুমকির মুখে শতবর্ষী মসজিদ ও ফসলি জমি
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের সর্জনপাড়া, হলিদাবগা, জোড়গাছা ও খোদাদিলেরপাড়া মৌজার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদী তীরবর্তী মানুষগুলো কষ্টে দিন চালিয়ে নিচ্ছেন। প্রকৃতির নিয়মে নদীর দু’কূল প্রতিবছরই ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে করে অনেক কৃষকের ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাটের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জান-মাল ফসলি জমি সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো-হুয়াকুয়া-সর্জনপাড়া বাঙালি ব্রিজ, সোনাকানিয়া শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ, হলিদাবগা ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ, বাঙালি হাট ও গ্রামের একাংশ, সাতবেকী গ্রামের ভাঙন এবং বগুড়া-গাবতলী-সৈয়দ আহমদ কলেজ স্টেশন-চরপাড়া-ভেলুরপাড়া-সোনাতলা হয়ে মোকামতলার এলজিইডি’র প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা রক্ষার জন্য গত ৪/৫ বছর আগে সোনাকানিয়া মসজিদের উত্তর পশ্চিম ধারে, হলিদাবগার ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ, বাঙালি হাট ও গ্রামের একাংশ মোনারপটল-সাতবেকী গ্রামের একাংশসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো রক্ষার জন্য ব্লক দিয়ে নদীভাঙন রোধ করে জনসাধারণের বসবাসের নিরাপদ সুযোগ করে দেওয়া হয়।
কিন্তু এক শ্রেণির বালু দস্যূ এসব জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং ফসলি জমির কাছাকাছি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে। এতে করে অবকাঠামো ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে। যদি তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ না পেতেন সেক্ষেত্রে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতো না, এতে করে শত শত নিরীহ কৃষক তাদের একমাত্র ফসলি জমি চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলতেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও সচেতন সাংবাদিকগণের সঠিক তৎপরতায় স্থানীয় এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানা পুলিশের সঠিক পদক্ষেপে ওইসব বালু দস্যূদের বালু উত্তোলনের মেশিনসহ আনুষঙ্গিক মালামাল নদীতে ফেলে দেয়। ফলে প্রথম বারেরমত এলাকাবাসীর আবাদি জমি ও সরকারি বেসরকারি অবকাঠামোসমূহ রক্ষা পায়।
আরও পড়ুনকিন্তু বালু দস্যূরা তাদের অবৈধ তৎপরতা বন্ধ করেনি, মাঝে মধ্যে নিরীহ কৃষকদের অনবরত হুমকি দিয়েই চলেছে। তারা যে কোনো মূল্যে আবারও অবৈধ উপায়ে বাঙালি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
আবারও যদি অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু করে-তবে এতে করে উক্ত সরকারি-বেসরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, মসজিদ, আবাদি ফসল, হাট-বাজার জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র রাস্তা (বগুড়া-গাবতলী-সোনাতলা-মোকামতলা পর্যন্ত) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আর কোনো দিনই যেন বাঙালি নদী থেকে কোনো প্রকার বালু উত্তোলন না করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন বোধে সর্জনপাড়া-হুয়াকুয়া বাঙালি ব্রিজ থেকে সোনাকানিয়া শতবর্ষী মসজিদ হয়ে হলিদাবগা বাঙালি হাট-সাতবেকী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার নদীবেষ্টিত এলাকা জনস্বার্থে চিরস্থায়ী সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করে বালু সন্ত্রাসীদের অবৈধকার্যকলাপ বন্ধ করে সরকারি-বেসরকারি সম্পদ অবকাঠামো ও নিরীহ কৃষকদের আবাদি জমি রক্ষা করা হয়। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ অবৈধভাবে বালু তোলার চেষ্টা করলে তা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন








_medium_1791298870.jpg)