ভিডিও শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩০ পিএম

বগুড়ার সোনাতলার খরস্রোতা সুখদহ নদী আজ মরা খালে পরিণত

বগুড়ার সোনাতলার খরস্রোতা সুখদহ নদী আজ মরা খালে পরিণত

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : এক সময় যে নদীর বুক চিরে চলত বড় বড় মহাজনি নৌকা, দুই পাড়ের মানুষের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকতো ঘাট, আর যার তীব্র স্রোতের গর্জনে মাঝিমাল্লারাও সমীহ করে চলতো—বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সেই ঐতিহ্যবাহী 'সুখদহ নদী' আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বছরের অধিকাংশ সময় নদীতে পানি থাকে না, পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি দীর্ঘদিন যাবৎ খনন বা ড্রেজিং না করায় এখন এক মরা খালে পরিণত হয়েছে।  

স্থানীয় উত্তর বয়ড়া গ্রামের ডাঃ জাহিদুল ইসলাম, বয়ড়া গ্রামের ফারাজুল ইসলাম মাস্টার, কোড়াডাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলাম দুলা, চরপাড়া গ্রামের সহিদুল ইসলাম মুঞ্জু বলেন, কয়েক দশক আগেও সুখদহ নদী ছিল সোনাতলা অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ধমনী। আশপাশের কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মালামাল পরিবহনের জন্য এই নদীই ছিল একমাত্র ভরসা। সারা বছরই নদীতে পানির প্রবাহ থাকতো। অথচ বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। নদীটি দীর্ঘদিন যাবৎ খনন বা ড্রেজিং না করায় এখন এক মরা খালে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই নদীর বুক শুকিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও জেগে ওঠেছে ছোট-বড় চর।

এক সময়ের প্রমত্তা এই নদী এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। সুখদহ নদীর অদ্ভুত চরিত্র হলো—শুষ্ক মৌসুমে এটি মরা খাল মনে হলেও, বর্ষাকালে বা উজানের ঢলে এর রূপ বদলে যায় ভয়ংকরভাবে। তখন ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানির কারণে নদীটি দুকূল ছাপিয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র নদীভাঙন। সোনাতলার উত্তর বয়ড়া কিংবা গোসাইবাড়ি পূর্বপাড়া সংলগ্ন এলাকায় নদীর দুই তীরে ভাঙন শুরু হলে শত শত ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়ে। সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের এপ্রোচ সড়কও অনেক সময় এই ভাঙনের কবলে পড়ে ধসে যায়। যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষার পানি ধরে রাখার মতো গভীরতা না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচ কাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ফলে দিন দিন নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। এছাড়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, সুখদহ নদীকে যদি পুনঃখনন না করা হয়, তবে খুব দ্রুতই এর অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। শুষ্ক মৌসুমে ব্যাপক ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। সুখদহ নদী শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি সোনাতলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী। নদীটিকে তার পুরনো রূপ ফিরিয়ে দিতে এবং ভাঙন থেকে দুই পাড়ের মানুষকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সোনাতলাবাসীর। এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, এই মুহুর্তে সোনাতলার সুখদহ নদী খননের কোন পরিকল্পনা নেই। 

আরও পড়ুন

 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সোনাতলার খরস্রোতা সুখদহ নদী আজ মরা খালে পরিণত

১

ডিএমপির ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

২

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে নওগাঁয় ১৩ মোটরসাইকেল  আটক

৩

পাবনার রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম

৪

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ২৮ টি মন্দিরে এবার দুর্গাপূজা হচ্ছে

৫

ফের উত্তপ্ত নয়াদিল্লি, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হামলা

৬