কবিরাজির ছলে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, বগুড়ার গাবতলীতে ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার
গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি : মাদ্রাসার জন্য দান গ্রহণ ও কবিরাজি চিকিৎসার ভান করে এক গৃহবধূর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ায় তিনজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গাবতলী থানায় নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে বগুড়ার গাবতলীর নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের কনিকা আক্তারের বাড়িতে অচেনা ২ ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার জন্য পবিত্র কুরআন শরীফ দান হিসেবে চায়। সে সময় গৃহবধূ সরল বিশ্বাসে তাদের পরিচয় জেনে কুরআন কেনার জন্য ৫শ’ টাকা দেয়।
এর কিছুদিন পর ওই দুই ব্যক্তি আরও ২ জন মাদ্রাসা ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় কনিকা আক্তারের বাড়িতে এসে ছাত্রদের পোশাক কেনার কথা বলে ২১০০ টাকা দাবি করে। গৃহবধূ তখনও সরল বিশ্বাসে তাদেরকে টাকা দেন।
পরবর্তীসময়ে গত ৮ আগস্ট সকালে ওই ৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কনিকা আক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে অসুস্থ বলে দাবি করে এবং কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রথমে তাকে এক বোতল তেলপড়া দিয়ে শরীরে মালিশ করতে বলে। গৃহবধূ তেল মাখলে ঘরে গোলাপ জল ছিটিয়ে দেয়ার পর গৃহবধূকে স্বর্ণের গহনা বের করে দিতে বলে।
সে সময় এক ধরনের অচেতন অবস্থায় গৃহবধূ নিজের স্বর্ণালংকার প্রতারকদের হাতে তুলে দেয়। প্রতারক চক্রটি তাকে সতর্ক করে বলে, এই গহনা ৭ দিনের আগে দেখা যাবে না। ভুলেও দেখতে চাইলে কবিরাজি চিকিৎসা কাজ করবে না বরং সংসারে চরম ক্ষতি হবে বলে জানায়। এছাড়া তারা কবিরাজি চিকিৎসা বাবদ গৃহবধূর নিকট থেকে আরও নগদ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
আরও পড়ুনএঘটনার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই গৃহবধূ গাবতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থানা পুলিশ রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের তিন সদস্যকে ভোর সাড়ে ৪টায় গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রংপুর জেলা বদরগঞ্জ থানার কাজীপাড়া গ্রামের আবু সায়েদের ছেলে শামসুল সরকার ওরফে মন্ত্রী (৩৩), একই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে নুরনবী ইসলাম ওরফে নয়ন (২৭) ও আমিনুল ইসলামের ছেলে শামসুল আলম (২৬)।
এব্যপারে মডেল থানার ওসি রাকিব হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা একটি পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে মসজিদ-মাদ্রাসার দানের কথা বলে এবং কবিরাজির ছলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন







