প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৪০ পিএম
মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না : শিক্ষামন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শুধু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে গেলে হবে না। প্রতিষ্ঠানকে নিজের উদ্যোগ নিতে হবে এবং কী প্রয়োজন, তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। শুধু মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না। ট্রিগার আমিও টানতে জানি। কাজ আমিও করতে জানি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের নেতৃত্ব নিজেদেরই দিতে হবে। উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে আসতে হবে। কী করা প্রয়োজন এবং কীভাবে তা করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তাব দিতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে রবীন্দ্রভারতীতে বাংলাদেশ ভবন করার জন্য ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জন্মবার্ষিকী আয়োজনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতির জন্য আসতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবারের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে ২ শতাংশের বেশি। তবে শুধু বড় বাজেট পেলেই হবে না, সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি টাকা, প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমি ঢাকায় না থাকা পাঁচ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ে চারটি বৈঠক করেছেন। এতে বোঝা যায়, সরকার শিক্ষা নিয়ে কতটা চিন্তিত।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় ২ হাজার ৫০০ কলেজের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি কলেজের অবস্থা সরেজমিনে দেখা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য পাওয়া যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের অধীনে থাকা কলেজগুলোকে যথাযথভাবে তদারক করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩০৭টি কলেজের শ্রেণিকক্ষে কী পড়ানো হচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কেমন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন, এসব বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদান ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেসব কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স চালু করা হয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত ঠিক রয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। এমন জায়গাও রয়েছে যেখানে এক বা দুজন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে। এসব তথ্য মন্ত্রণালয়কে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1789478793.jpg)

_medium_1789474188.jpg)
_medium_1789473839.jpg)

_medium_1789471942.jpg)