ভিডিও সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৭ পিএম

আগ্রাসী পদ্মায় একের পর এক বিলীন হচ্ছে স্থাপনা

আগ্রাসী পদ্মায় একের পর এক বিলীন হচ্ছে স্থাপনা

রাজশাহী প্রতিনিধি: আগ্রাসী পদ্মায় রাজশাহীর চরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে গত দু’দিনে পদ্মার পানি কমেছে মাত্র ২ সেন্টিমিটার। এতেই ভাঙনের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পদ্মার পানি বাড়ায় বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাঠদান বন্ধ রয়েছে আরেকটি বিদ্যালয়ে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে গেছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৯ মিটার। গত রোববার সকালে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৯ মিটার।

গত শনিবার টি-বাঁধ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পদ্মার ভাঙনের ভয়াবহতার সবচেয়ে নির্মম চিত্র দেখা গেছে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে। সেখানে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু নদীভাঙনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই বিদ্যালয়টি পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। প্রায় ১০০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে গেছে।

পবা উপজেলার চর খিদিরপুরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মিডিল চরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপচে পড়া পানিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বেশিরভাগ বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চর খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহেও একই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু চরাঞ্চল নয়, পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাজশাহী নগরীর কিছু নিচু এলাকাতেও।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্লুইসগেট এলাকার পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় চরাঞ্চলসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে।

গবাদিপশু রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত প্রতিদিনই পানি পরিমাপ করছি। পদ্মার পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। এখানে বন্যা হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে কিছু কিছু স্থান প্লাবিত হয়েছে, যেটি প্রতিবছরই হয়ে থাকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগ্রাসী পদ্মায় একের পর এক বিলীন হচ্ছে স্থাপনা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সারের সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে : হুইপ রফিকুল ইসলাম খান

বগুড়া স্টেশন রোডে ফুটপাত ও রাস্তা দখলের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

নাটোরের সিংড়ায় স্রোতিজালের কাঠামো অপসারণ করলো প্রশাসন

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত