ভিডিও শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৩ পিএম

বগুড়ায় ব্যবস্থাপনা সংকটে বাস্তবায়ন অনিশ্চিত ১শ’ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল প্রকল্প

বগুড়ায় ব্যবস্থাপনা সংকটে বাস্তবায়ন অনিশ্চিত ১শ’ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল প্রকল্প

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : ব্যবস্থাপনাগত সংকটে অনিশ্চয়তায় আটকে আছে বগুড়া সারিয়াকান্দির সীমানা ঘেঁষে চলমান জামালপুর মাদারগঞ্জের ১শ’ মেগাওয়াট আরপিসিএল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে, ফলে প্রকল্পটি কবে শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির সমস্ত কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্থানীয়দের পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি এবং তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরপিসিএল এ বিষয়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমদানি করা সামগ্রীগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সেগুলো চুরি ও মানের অবক্ষয়ের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, প্রকল্পের কাজ কখনো বন্ধ  হয়নি। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরপিসিএল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে, ফলে প্রকল্পটি কবে শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিগত  ২০ আগস্ট তৎকালীন বিদ্যুৎ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জামালপুরের মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির সমস্ত কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তৎকালীন প্রকল্প পরিচালকসহ একাধিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের অদক্ষতা ও ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। একই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আরপিসিএলকে বিদ্যুত বিভাগ কর্তৃক অবহিত করা হয়েছিল।

সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রকল্পের বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এএফআরওয়াই সুইজারল্যান্ড লি. এর চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ দেড় বছর নতুন কোনো পরামর্শক নিয়োগ না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরবর্তীতে সম্প্রতি ২৫ আগস্ট এ্যাটল্যানটা এন্টারপ্রাইজ নামের নতুন একটি বাংলাদেশি অনভিজ্ঞ  পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়, যা প্রকল্পের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া আরপিসিএলের ১৫ সেপ্টেম্বর এর চিঠির মাধ্যমে সৌর বিদ্যুত কেন্দ্রটির মূল ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদার আমারারাজা ইন্ফ্রা প্রাইভেট লিমিটেডকে প্রকল্পের জন্য উপকরণ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত সংস্থাটির সমস্ত রকম প্রাপ্য বকেয়ার অর্থপ্রদান এখনও বাঁকি রয়েছে। ফলে প্রকল্পের সমস্ত নির্মাণকাজ কার্যত থেমে যায়।

প্রকল্প এলাকায় পুনর্বাসন কার্যক্রমও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি যা আরপিসিএল ভিন্ন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে দেশিয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এখনও ৩২টি পরিবার প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে বসবাস করছে।

আরও পড়ুন

শাহজাহান, শাহ আলম, বিল্লাল আকন্দ, আজিবুর ছোটোর, ওশুল আকন্দ, আছোর ও মুসা, জালাল মন্ডল, রবিউল, ছানোয়াসহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, পুনর্বাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরপিসিএল এ বিষয়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌর প্রকল্পের ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দুটি বড় ব্যাচিং প্ল্যান্ট, জনবল, শ্রমিক, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পদ নিয়ে অপেক্ষমান অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাজ বন্ধ থাকলেও এসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল সংরক্ষণে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

ট্রান্সমিশন লাইনের প্রকল্পটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় তারা টাওয়ারের উপকরণগুলোকে চুরি থেকে রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমদানি করা সামগ্রীগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সেগুলো চুরি ও মানের অবক্ষয়ের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে ১০০ মেগাওয়াটের এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তবে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা এবং বিভিন্ন অনিষ্পন্ন ইস্যুর কারণে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে প্রকল্পটির সুফল অর্জন আরও বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় জয়দুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সংবাদ পড়ে মনে হয়েছিল ১০০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল প্রকল্পের উৎপাদন খুব শিগ্গরই শুরু হবে। কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জেনেছি, এর কার্যক্রম কচ্ছপ গতিতে চলমান।

বেশিরভাগ সময় কার্যক্রম বন্ধ লক্ষ্য করছি আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে জানতে পারলাম তাদের মধ্যে প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা রয়েছে। আমরা চাই প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত হোক এবং আমরা তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করতে পারি। ঠিকমতো কাজ হলে ২০২৪ সালেই প্রকল্পটি উৎপাদনে আসতো।

জামালপুর ১০০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল পাওয়ার প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন আক্তার বলেন, প্রকল্পের কাজ কখনো বন্ধ  হয়নি। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কোনও প্রশাসনিক জটিলতা নেই এবং ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা নেই। যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে। সম্প্রতি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ব্যবস্থাপনা সংকটে বাস্তবায়ন অনিশ্চিত ১শ’ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল প্রকল্প

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ইপিজেড বাস্তবায়নে সহযোগিতা চাইলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নীলফামারীর ডিমলায় মাদক সেবনের অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

‘বিটিভি’র ‘দ্য মিউজিক লিজেণ্ডস’-এ গাইলেন সাব্বির-স্মরণ

বগুড়ায় নানার সম্পত্তি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ : সংবাদ সম্মেলনে চার বোন