বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার গুনাহার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চত্ত্বর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের চত্তর থেকে স্থানীয় জনগণ মেয়াদোত্তীর্ণ মূল্যবান বিভিন্ন সরকারি ওষুধ ছড়ানো, ছিটানো ও প্যাকেটজাত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মেহেদী হাসান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট আব্দুল মান্নানকে কারণ দর্শানো নোটিশসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে গুনাহার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অবস্থিত। গ্রামের অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনসহ জনগনের দোর গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ভূমিকা রেখে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার গ্রামের সাধারন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে জমির আগাছার মধ্যে এবং ভবনের গ্রেডবীমের নিচেসহ ভবনটির দুইপাশে মেয়াদোত্তীর্ণ মূল্যবান বিভিন্ন সরকারি ওষুধ ছড়ানো, ছিনানো ও প্যাকেটজাত অবস্থায় দেখতে পায়।
স্থানীয় এক যুবক ওষুধগুলোর ভিডিও ধারন করে স্যোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মেহেদী হাসান এর নজরে এলে তিনি ঐ দিনই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান।
আরও পড়ুনএবিষয়ে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মরত ফার্মাসিস্ট আব্দুল মান্নান জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ পরিত্যাক্ত ওষুধগুলো তিনি ফেলেননি। তার অনেক আগেই এসব ওষুধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হয়েছিল। তিনি বিষাক্ত কীটনাশক দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করার পর আগাছাগুলো মারা যাওয়ায় ওষুধগুলো জনসম্মুখে বের হয়ে আসে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মেহেদী হাসান জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ এভাবে বাহিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখার কোনো বিধান নেই।
সরকারি নিয়মানুসারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পুড়িয়ে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মরত ফার্মাসিস্ট আব্দুল মান্নানকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে দুই কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব প্রদান করতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও কনসালট্যান্ট ডাক্তার আনোয়ারুল্লাহ্কে সভাপতি করে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মশিউর রহমান ও স্টোর কিপার বুলবুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন







