প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:১২ পিএম
দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ
দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার ফলে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে, এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তার দেয়া বক্তব্যটি ভুলবশত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি বাদ দেয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দেয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা এখনও বহাল রয়েছে।
আইনি নোটিশে দুদকের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সঙ্গে আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিও নোটিশে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার পদ থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ, তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতি হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যটি ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1789114642.jpg)


