রংপুরে চার খুন: আসামিদের কারাগার গেটে তদন্ত টিমের জিজ্ঞাসাবাদ, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা মনে করছে পুলিশ
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এসেছে নতুন মোড়। গ্রেফতারকৃত দুজনের হত্যাকান্ডের আগে ৪০ থেকে ৫০ বার ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। কললিস্ট বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে এরকম নতুন তথ্য তুলে ধরেন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্র।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জিন্নাত আলীসহ দুইজন ডিবি সদস্য রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে প্রবেশ করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাদের সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত সোমবার বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ বিচারক রফিকুল ইসলাম আসামি সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ দাসকে কারাগারের গেটে দুইদিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি জানায়, হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে এবং পরে ৪০ থেকে ৫০ বার কথা বলেছে। যা অস্বাভাবিক এবং এই কারণে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত মুগ্ধের বাবা কানু দাস ও আসামি সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ফুফাতো ভাই। সেই সূত্রে তারা আপন চাচাতো ভাই।
আরও পড়ুনমহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, কারাগারের গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়গুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছেন।
মন্তব্য করুন







