ভিডিও বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৩১ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা

রুমিন ফারহানা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এই নির্বাচনকে ‘অর্থহীন ও প্রহসনের’ আখ্যা দিয়ে ভোট না দেওয়ার তিনটি কারণ জানিয়েছেন তিনি।

 

ভোট না দেওয়ার বিষয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’

ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’

তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া ছয়জন সংসদ সদস্যের মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

এ ছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান ভোট দিতে আসেননি। আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন

 

বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। তাদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। তবে একবার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।

 

এদিকে ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন বলে জানানো হয়। তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের ওই সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা

কোটি টাকার বিনিময়ে নিজেকে বিক্রি করব না: রাজপাল যাদব

বগুড়ায় স্কুল বাস খাদে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর, আহত ১০

যশোরে পূর্বশত্রুতার জেরে দিনে দুপুরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ এমপি

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি