প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৩১ পিএম
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জ্বালানি নিয়ে একটা সংকট বিগত সরকার করেছিল। তার একটা নেতিবাচক প্রভাব আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। সংকট উত্তরণে স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। আশা করছি এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু রাতারাতি নয়, একটু সময় সাপেক্ষ হবে।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘চিটাগংয়ে দুটি এফআরএসইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) আছে, তার একটা মোংলা হওয়া ন্যায্য। সেটি হলে দক্ষিনাঞ্চলসহ এই তিনটি বিভাগের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আমরা আকরাম পয়েন্টসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা নাব্যতা ও অন্যান্য বাস্তবিক অবজারবেশন করা হয়েছে। আমরা ফআরএসইউ স্থাপনের করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোংলা পোর্টকে উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বন্দর এলাকায় একটি অর্থনৈতিক জোন হবে, যা চায়না কোম্পানি করবে। তা হলে ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মোংলা পোর্ট চ্যানেলের নাব্যতা সব সময় ১২ মিটার রাখতে চাই। তাহলে মোদার ভ্যাসেল ও বড় জাহাজগুলো এখানে আসা সম্ভব। একটা পোর্ট হিসেবে মোংলা বন্দর শুধু অর্থনীতিতে ৫-৬ শতাংশ ভূমিকা রাখছে।’ এটাকে ইচ্ছে করলেই ৩০-৩৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
গনমাধ্যমকর্মী সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক জায়গায় যেমন বিচ্যুতি হয়েছে। তেমন সাংবাদিকদের মধ্যেও হয়েছে। এই জায়গায় আমাদের সতর্ক হতে হবে। ইদানিয় আমার কাছে মনে হচ্ছে সাংবাদিক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে তা হয়ত রাষ্ট্র বান্ধব হবে না। এই জায়গায় আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের উন্নয়ন অর্থবিত্তে ও সম্পদে নয়, সাংবাদিকদের উন্নয়ন হবে মননে। ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হয় অর্থে, টেকনোলজির উন্নয়ন হয় বিজ্ঞানে, আর সাংবাদিকদের উন্নয়ন হয় অনুসন্ধানে।’
তিনি বলেন, ‘এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কাজ শুরু হয়েছে, আশাকরি খুব ভালোভাবে লাজ শেষ হবে। এছাড়া বাগেরহাটে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল সড়কের কাজ করা হবে। সরকার জনগণের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন প্রমুখ।
এর আগে দুপুরে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় দশানী-রামপাল-মোংলা জেলা মহাসড়কের দশানী থেকে গিলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজের উদ্ধোধন করেন মন্ত্রী। এসময়, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সড়ক বিভাগ বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। নামফলক উন্মোচন শেষে কাজের সফলতা কামনা করে নিজেই মোনাজাত করেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বাগেরহাট দশানী রামপাল মোংলা পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ ৪ টি প্যাকেজে ২০২১ সালে শুরু হয়। দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সরকের কাজ ঠিকাদারির গাফিলতীতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পুরনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে সড়ক বিভাগ। মাফুজ খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় এই কাজ করছেন। ২০২৭ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিকালে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক




_medium_1786974927.jpg)
