ভিডিও রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০২ পিএম

ফেসবুক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ ঢাবির হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুন ও শিক্ষার্থী ইব্রাহীম

ঢাবি প্রতিনিধি:  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট শেয়ার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে একই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে।

আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) আরেকটি ফেসবুক পোস্টের হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম।

হল প্রভোস্টের অফিসে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে পোস্টে ইব্রাহীম লিখেন, ‘ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করায় হলের প্রভোস্ট তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আনুমানিক দেড় ঘণ্টা ধরে তীব্র ভীতি প্রদর্শন, সিট ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়ার ভয় দেখান। একই সঙ্গে প্রভোস্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় জোরপূর্বক একটি মুচলেকা লিখে তার স্বাক্ষরও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেন তিনি।

তার দাবি, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হলের একটি সংকট নিয়ে করা পোস্ট শেয়ার করার কারণে তাকে প্রভোস্ট রুমে ডেকে পাঠানো হয়। নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রমাণের স্বার্থে ফোনে অডিও রেকর্ড চালু করে প্রভোস্ট কার্যালয়ে প্রবেশ করলে, সেটি বুঝতে পেরে প্রভোস্টের নির্দেশে হলে কর্মরত ইলেকট্রিশিয়ান ও প্রধান সহকারীসহ কয়েকজন কর্মচারী তার মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেন। পরবর্তীতে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

সেখানে আরও বলা হয়, প্রভোস্ট নিজের তৈরি একটি স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি লেখান এবং স্বাক্ষর আদায় করেন। উক্ত স্ক্রিপ্টে লেখা ছিল—তিনি হল সংসদের প্রতিনিধি বা অন্যান্যদের প্ররোচনায় পড়ে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতা ও ক্রমাগত মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে শিক্ষার্থী কান্নাকাটি শুরু করলে এবং পোস্ট না করার শর্তে প্রভোস্ট থেকে ক্ষমা চাইলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহীম জানান, আমি হলের একটি সমস্যা নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার দেওয়ার পর আমাকে হল অফিসে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তারা আমার গায়ে হাত তুলেন। আমার মোবাইল ফোনও চেক করেন তারা। ছাত্রলীগের আমলে হলে প্রচলিত ‘গেস্টরুম কালচার’-এর চেয়েও এই অবরুদ্ধ করার ঘটনাটি তার কাছে ভয়াবহ মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বললাম।তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলার পরে তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নাস্তা করিয়ে বিষয়টার মিটমাট করলাম।’

একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী রুমে প্রবেশের শুরু থেকেই রেকর্ডিং চালু করে রেখেছিল। বিষয়টা আমি জানতে পারার পর তাকে বলি আমার পারমিশন ছাড়া রেকর্ড কীভাবে করতে পারো? এটা এখনই ডিলেট করো। আমি তার ফোন চেক করিনি। হলের স্টাফদের দিয়ে....তাকে দিয়ে ডিলিট করিয়েছি।’

জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো জোরাজুরির ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষার্থীকে বোঝানোর পরে তাকে কারা কারা আমার বিরুদ্ধে ফান্ড না দেওয়া অভিযোগ করেছে সেটা লিখতে বলার পরে সে তাদের নাম লিখে দিয়েছে।’

ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ইকবাল হায়দার বলেন, হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের আচরণ করার অভিযোগ ছিল শিক্ষার্থীদের। আজকের এ ঘটনাও কোনোভাবে কাম্য নয়। স্বয়ং হল প্রভোস্ট এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেবে কে?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফেসবুক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ ঢাবির হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে

আবারো শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারির স্বর্ণপদক পেলেন মহিত তালুকদার এমপি

ঢাকার বংশালে হেলমেট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বগুড়ার শেরপুরে ট্রাক চাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২