ভিডিও বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:১৪ পিএম

 দৈনিক করতোয়া:  প্রাসঙ্গিক কিছু স্মৃতিকথা

রাহমান ওয়াহিদ : জন্মজেলা বগুড়া হলেও আমার বেড়ে ওঠা বগুড়ার বাইরে। কর্মজীবনেরও বেশিরভাগ সময় কেটেছে ঢাকায়। তাই দৈনিক করতোয়ার সাথে পরিচিত থাকলেও মূলত সখ্য গড়ে ওঠে দীর্ঘ কর্মজীবনশেষে বগুড়ায় ফিরে আসার পর। তখন বারো পৃষ্ঠার রঙিন করতোয়াই হয়ে উঠলো আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের  নানান বঞ্চনার কথা বিভিন্ন কাগজে পড়লেও এতটা বিস্তৃতভাবে জানার সুযোগ হয় প্রথম এই করতোয়াতেই। একটা পর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিকতা করার সুবাদে এই পাঠকপ্রিয় দৈনিক করতোয়ায় নানান ধরনের সংবাদ,সম্পাদকীয়,উপসম্পাদকীয় পড়তে পড়তে এক সময় মনে হলো-উপসম্পাদকীয় লিখে করতোয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০২২ সালের শেষের দিকে ‘মানবতার দেয়াল’ শীর্ষক একটা লেখা পাঠালাম করতোয়ায়। কিছুদিন পর সেটি ছাপা হলে কী যে আনন্দ হয়েছিল,তা বোঝানোর নয়। সেই শুরু। এখনও চলছেই। এজন্য করতোয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। 

বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপসম্পাদকীয় ছাপার অক্ষরে বেরিয়ে আসে যে দক্ষ মানুষটির হাত দিয়ে,তিনি উপদেষ্টা সম্পাদক সম্মানিত ওয়াসিকুর রহমান বেচান। অত্যন্ত অভিজ্ঞ,দারুণ সজ্জন ও গুণী সাংবাদিক বেচান ভাই। এখন প্রায় প্রতিদিন দুটো করে উপসম্পাদকীয় প্রকশিত হচ্ছে করতোয়ায়। প্রবীণ ও নবীন কলাম লেখকের যৌথ,অথচ ঋদ্ধ ভাবনা প্রতিফলিত হয়ে চলেছে প্রতিদিন,যা পাঠকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে ও যুগোপযোগী তথ্য আহরণে সমৃদ্ধ করছে নিঃসন্দেহে। 
একবার ব্যক্তিগত এক কাজে নিলফামারির একটা গ্রামে গিয়েছিলাম। একটা দোকান থেকে বিস্কিট কিনতে গিয়ে দেখি দোকানির পাশেই রাখা দৈনিক করতোয়া। দেখে তো ভীষণ অবাক আমি। এই নিলফামারির প্রত্যন্ত এলাকাতেও করতোয়া আসে! দোকানিকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন,আমাদের এ অঞ্চলের কথা বেশি ছাপা হয় করতোয়াতেই। তাই এটাই রাখি।’এরপর উত্তরাঞ্চলের সব জেলাতেই যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। উত্তরাঞ্চল ছাড়াও অন্য আরো যেসব জেলা শহরে গিয়েছি সেসব শহরেও করতোয়ার উপস্থিতি আমাকে দারুণভাবে উদ্বেলিত করেছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী দেশের উত্তরাঞ্চলে সর্বাধিক প্রচারিত একটিই জাতীয় দৈনিক। সেটি দৈনিক করতোয়া। 

প্রিন্ট ভার্সনের দৈনিকের যে দুর্দিন চলছে আজকাল,সে প্রেক্ষিতে দৈনিক করতোয়া নিরপেক্ষতার ভারসাম্য বজায় রেখে,জনবান্ধব খবর ও সময়োপযোগী উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করার মাধ্যমে পাঠকপ্রিয়তা আজো ধরে রেখেছে প্রায় আগের মতোই। যুগ যুগ ধরে দেশের উপেক্ষিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত বিরাট একটি অঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে সগৌরবে বেঁচে থাকাটা একটা জাতীয় দৈনিকের জন্য নিশ্চয়ই বিরাট একটা প্রাপ্তি। আর সেই পত্রিকার একজন নিয়মিত কলাম লেখক হিসেবে বিরাট সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছে যাওয়াও আমার জন্য কম সৌভাগ্যের ব্যাপার নয়। প্রায় চার বছর ধরে উপসম্পাদকীয় লিখে যাচ্ছি। 

কোন কোন লেখা মানুষের মনকে যখন ভীষণভাবে স্পর্শ করে,তখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক ফোন কল পাই। তাঁরা খুশি হয়ে ধন্যবাদ তো জানানই,সাথে দেশের চলমান কিছু সমস্যা নিয়ে লেখার অনুরোধও জানান,যা আমাকে আরো উৎসাহিত করে। একবার করতোয়ায় ‘আর্থিক কষ্টে আছেন দেশের ইমাম মুয়াজ্জিনেরা’ শিরোনামে আমার লেখাটি প্রকাশের পর বগুড়া শহরের এক মসজিদের ইমাম সাহেব আমাকে ফোন করে প্রায় কেঁদেই বললেন,আমাদের নিয়ে কেউ ভাবে না বাবা,কতটা কষ্টে যে আছি আমরা। আপনি আমাদের কষ্টের কথা লেখার জন্য আপনাকে আমরা প্রাণ ভরে দোয়া করছি।’ সত্যি,সেদিনের সেই কান্নাভেজা কণ্ঠ শুনে মনে হয়েছিল,তাদের উপকার হোক বা না হোক,তাদের প্রাণের আকুতির কথাগুলো যে তুলে ধরে তাদের মনকে স্পর্শ করতে পেরেছি,তাতেই আমার কলাম লেখকের জীবন সার্থক। 

আরও পড়ুন

এখন  বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে যে জোর তৎপরতা চলছে,তার ভিত্তি কিন্তু তেইশ বছর পর পাশ হওয়া  বগুড়া প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়,যা বগুড়া বিদ্বেষী সরকারের হিমঘরে চলে গিয়েছিল। এ নিয়ে এই করতোয়াতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কলাম লিখে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম,ওই সময়ে আমার জানামতেআমিই প্রথম। একইভাবে প্রায় দুশো বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোশেন করা নিয়ে গণআন্দোলন যখন স্তিমিত হয়ে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল,তখনও সরকার থেকে উপেক্ষিত হবে জেনেও ২০২৩ সালে ৩০ জানুয়ারিতে ‘বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন করা হোক’ শিরোনামে এবং পরবর্তীতে আরেকটি উপসম্পাদকীয় লিখেছিলাম। আজ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন বগুড়ায় বহুমাত্রিক ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ ও ‘বগুড়া  সিটি কর্পোরেশন’এর মর্যাদা পেতে দেখি,তখন এ ধরনের উপসম্পাদকীয় সামান্য হলেও যে ভূমিকা রেখেছে,তা জোর দিয়ে বলাই যায়। কারণ,ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-জনগণের কোন ন্যায্য দাবিই কখনো বৃথা যায় না। 

কাগজের পাতায় দাবিটি তুলে ধরে রাখলে তাৎক্ষণিকভাবে তা পূরণ হয় না ঠিক। কিন্তু তা ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর যে নৈতিক চাপ সৃষ্টি করে,তা অস্বীকার করা যাবে না। সেটি তখন উপেক্ষিত হলেও অন্য কোন অনুকূল সময়ে,সেটি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে যায়,সেই দাবিটি পূরণের দালিলিক ভিত্তিও পায় এবং সেটির ভিত্তিতে কাজও হয়। এখন বগুড়া বিমানবন্দর,করতোয়া নদী দুষণমুক্তকরণ,যানজট নিরসন ইত্যাদিসহ জাতীয় পর্যায়ে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে,সেসবও বিভিন্ন সময়ে লেখা উপসম্পাদকীয়রই সূচনা ভিত্তি। দৈনিক করতোয়া দৈনন্দিন খবর পরিবেশনের পাশাপাশি উপম্পাদকীয়গুলোতেও যে যথেষ্ট মনোযোগী, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণযোগ্য। সুদক্ষ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের নিরলস প্রচেষ্টায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে দৈনিক করতোয়া যে আজ ৫০তম বছর পূর্ণ করেছে, তা এক অসামান্য অর্জন। সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা বুকে ধারণ করেই এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক-অর্ধ শতক পূরণকারী এ পত্রিকাটির জন্য এটিই আজ কামনা।  

লেখক: কবি, কথাশিল্পী ও কলামিষ্ট
০১৭১১-০৫৫২৮১  

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মক্কা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের একাদশে অস্ট্রেলিয়ার তিন ‘পেস তারকা’

বগুড়ার সাবেক এসপি সুদীপসহ বরখাস্ত হলেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

অভিনয়ে দারুন ব্যস্ত সুনেরাহ

সজীব দাসের সুরে ফাহমিদা নবীর কন্ঠে ‘ ভালোবাসা চাইতে গেলে’