এআইভিত্তিক লার্নিং প্ল্যাটফর্ম 'বিডিএআই স্কুল' চালু
শেখ শাহরিয়ার হোসেন : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা-সহায়তা প্ল্যাটফর্ম 'বিডিএআই স্কুল' (bdaischool.com) চালু হয়েছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যবিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, ইংরেজি শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিষয়ে নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় শিক্ষা-সহায়তা নিতে পারবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শেখার চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা-সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কঠিন বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে প্ল্যাটফর্মটিতে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার যেসব শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষক বা কোচিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য এটি বিকল্প শিক্ষাসহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি এআই স্কুল তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমজেএস ডিগ্রিধারী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার মো. সোহেল রানা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এআই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ডেভেলপার মো. সোহেল রানা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী একটি শিক্ষা-সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকেই বিডি এআই স্কুল তৈরি করা হয়েছে। দেশের সব শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ সমান নয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে, যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক, মানসম্মত কোচিং বিংহ্বা প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী সহজে পাওয়া যায় না। আবার অনেকের জন্য নিয়মিত কোচিং বা অতিরিক্ত শিক্ষা ব্যয় বহন করাও কঠিন। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা শিক্ষার্থীরা তাদের আর্থিক সামর্থ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় সহজে শিক্ষা-সহায়তা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই একজন শিক্ষকের বিকল্প নয়। বরং এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি। এআই কঠিন বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে, শিক্ষার্থীর প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে এবং তার শেখার গতি ও প্রয়োজন জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যবিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, ইংরেজি শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিষয়, কোর্স ও শিক্ষাসেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি বিডি এআই স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় প্রশ্ন করতে, কঠিন বিষয় সহজভাবে বুঝতে এবং নিজের শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিতে পারবে।
আরও পড়ুনদিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে একটি নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে এআইভিত্তিক শিক্ষা-সহায়তা নেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী এখনও অভিজ্ঞ শিক্ষক, মানসম্মত কোচিং কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম বাড়তি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে একজন শিক্ষার্থী নিজের বাড়িতে বসেই ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা-সহায়তা ও প্রস্তুতির সুযোগ পাবে। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে আরও বিষয়, উন্নত ফিচার এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, এআইভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের পাঠ্যবিষয়ক তথ্যের নির্ভুলতা, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে এআইভিত্তিক শিক্ষা-সহায়তা উদ্যোগগুলো দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা-সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন









