প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৩১ পিএম
সোনারগাঁয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে যুবক খুন
সোনারগাঁয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে যুবক খুন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রাজু আহম্মেদ (৩২) নামের এক গরুর খামারিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধ মীমাংসা করতে যাওয়ায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এসে পরিবারের নারীসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন।
গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু আহম্মেদ ওই এলাকার আয়নাল হক ও সালেহা বেগম দম্পতির ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী সুমাইয়া, দুই ছেলে, বাবা-মা ও ভাই-বোন রয়েছে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি গরুর খামার পরিচালনা করতেন।
পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাজু অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
রোববার রাতে রাজুর এক ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাজু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরিবারের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কিছুক্ষণ পর নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার ফুফাতো ভাইকে বাড়িতে না পেয়ে সরাসরি রাজুকে লক্ষ্য করে চড়াও হয়। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। রাজুর চিৎকারে পরিবারের নারীরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহত রাজু আহম্মেদকে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রাজু বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নন, তবে তিনি দলটির সমর্থক ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি গরুর খামার পরিচালনা করতেন বলে জেনেছি।
অভিযুক্ত শাহাদাত প্রধান বলেন, আমি গত তিন দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরে আছি। আমার বাবা একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য একটি চক্র আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এ ধরনের কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, এটি রাজনৈতিক বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, আলামত জব্দ ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1785154001.jpg)

_medium_1785150721.jpg)
_medium_1785150294.jpg)

