বছরে রেনুপোনা উৎপাদন হয় ২১ হাজার মেট্রিক টন
বগুড়ার আদমদীঘিতে মৎস্য শিল্পায়নের সম্ভাবনা থাকলেও গড়ে তোলা হয়নি
আদমদীঘি (বগুড়া) থেকে : দেশের মাছের ভান্ডার বলে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা মৎস্য শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্বেও বড় কোন মৎস্য শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ব্যাক্তি মালিকানায় বাজারজাত করনের ২/৩ টি বৃহৎ মৎস্য প্রজেক্ট থাকলেও সরকারী ভাবে আর্থিক সহযোগীতা না থাকায় এখানে মৎস্য শিল্পায়ন গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারি সহযোগিতায় এখানে মৎস্য শিল্পায়ন গড়ে তোলার দীর্ঘ দিনের দাবী মৎস্য চাষী ও ব্যবসায়ীদের।
১৯৮০ সালের দিকে প্রয়াত মনমত সরকার ও রফি আহম্মেদ আচ্চু হ্যাচারি স্থাপনের মাধ্যমে রেনুপোনা উৎপাদন শুরু করেন। এরপর থেকে তাদের আর পিছু হটতে হয়নি আদমদীঘির মৎস্য শিল্পকে ক্রমেই উন্নতি পথে এগিয়ে নেন মাছ চাষে। শেখ রফি আহম্মেদের সহযোগীতায় এখানকার শতশত বেকার যুবক মাছ চাষের প্রশিক্ষন নিয়ে ঝুঁকে পড়েন রেনু পোনা ব্যবসায়।
উপজেলায় ছোট বড় ৬৯টি হ্যাচারি ও ২হাজার ৫শ টির অধিক নার্সারি ব্যবসায়ী রয়েছে। উপজেলায় ছোট বড় সরকারী ৫শ ৪৬টি ও বে-সরকারী ৫হাজার ৯২৬টি মৎস্যচাষের পুকুর রয়েছে। এ সেক্টরে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান পেলেও মৎস্য শিল্পায়ন গড়ে উঠেনি।
বিভিন্ন হ্যাচারীতে রেনুপোনা ্উৎপাদন হয় বছরে প্রায় ২০ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। উপজেলায় চাহিদা মাত্র ৪৬০.৭৯ মেট্রিক টন। অবশিষ্ঠ রেনুপোনা এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও এখানকার পাঙ্গাসের পোনা দেশের বাহিরে অনেক চাহিদাও রয়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পাঙ্গাসের পোনা রফতানীর ব্যবস্থা করা হলে আদমদীঘি উপজেলা থেকেই বছরে ১শত কোটি রেনুপোনা রপ্তানী করা সম্ভব।
এতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও দেশের মৎস্য চাষীদের অর্থনৈতিক উন্নতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে। এখানকার হ্যাচারীতে উৎপাদিত দেশী জাতের মাগুর, চিতল, শিং মাছ, ভিয়েতনাম কৈ, পাঙ্গাস, সিলভার কার্প, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির রেনুপোনা মাছ ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, কুমিল¬া, দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার ও ব্যবসায়ীরা স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে ট্রাক যোগে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন১৯৯০ সালের দিকে আদমদীঘির পাবলিক লাইব্রেরীর পার্শ্বে একটি পুকুর পাড়ে পুর্নাঙ্গ ক্ষুদ্র মৎস্য বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বাজারকে ঘিরে ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি গঠনের মাধ্যমে বাজার গুলো নিয়ন্ত্রন করে আসছে। নার্সারী ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে কমিশনে পোনা মাছ ক্রয় করে প্রায় ৫ শতাধিক সমিতির সদস্যরা ওই বাজারে বিক্রির জন্য রেনুপোনা সরবরাহ করে থাকে।
এই বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার ও ব্যবসায়ীরা রেনুপোনা মাছ ক্রয় করে কেউ ট্রাক যোগে আবার কেউ পাতিলে বহন করে অন্যত্র নিয়ে যান। আদমদীঘির সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদ হোসেন জানান, এ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় রেনু ও বাজারজাত করনের পোনা মাছ বেশী উৎপাদন হলেও উদ্বৃত্ত রেনুপোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এখানে মৎস্য শিল্পায়ন গড়ে উঠলে টেবিল ফিস উন্নত হলে মৎস্যচাষীরা উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যে ৮টি মৎস্য প্রদর্শনী খামারে মৎস্যচাষের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।
বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার জানান, আদমদীঘি উপজেলা মৎস্য উৎপাদনকারী একটি শিল্প হিসাবে খ্যাত রয়েছে। এই উপজেলায় বড় মৎস্য শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মৎস্য শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে এখান থেকে বিদেশে বিপুল পরিমান মাছ রফতানি করে দেশের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বেকারত্ব দুর করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন



_medium_1784125603.jpg)

_medium_1784125430.jpg)


