এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাজন মিয়া (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার মাইজপাড়া (কোনা কালিহর) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। পেশায় কৃষক এবং তিনি বিবাহিত।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সকালে পূর্বধলা উপজেলার হোড়লা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকার কালিহর নদী থেকে একটি নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি একটি কালো শার্টে মোড়ানো ছিল এবং প্লাস্টিকের রশি দিয়ে একটি ইটের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক খান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পর বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রায় সাত মাস আগে প্রথমবার শিশুটিকে ধর্ষণ করে সাজন। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক মাস ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বয়স কম এবং শারীরিক গঠনের কারণে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
আরও পড়ুনগত ২৮ জুন সকালে শিশুটি তীব্র পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাইয়ে কাজে চলে যান। রাতে ব্যথা বেড়ে গেলে রাত প্রায় ১টার দিকে বাড়ির প্রস্রাবখানার পাশে তার গর্ভপাত হয় এবং একটি মৃত কন্যাশিশুর জন্ম হয়।
পরে শিশুটি বিষয়টি মাকে জানালে তিনি নবজাতকের মরদেহ দেখতে পান। তখন ভুক্তভোগী মায়ের কাছে ধর্ষণের ঘটনাও খুলে বলে। এরপর রাতে সাজনকে ডেকে আনা হলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের একটি কালো শার্টে নবজাতকের মরদেহ জড়িয়ে রশি দিয়ে ইট বেঁধে ভোরে অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে কালিহর নদীতে ফেলে দেন তিনি।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল আল মামুন জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ড আবেদন করা হবে। নবজাতকের মরদেহ গুমের মামলার পাশাপাশি ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজ ডেস্ক


_medium_1783429544.jpg)

_medium_1783428284.jpg)
-6a4cbafb88e93_medium_1783426839.jpg)
