শুধু রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করছেন? অজান্তেই বাড়ছে আপনার বিদ্যুৎ বিল!
গরমের দিনে ঘরের আরাম নিশ্চিত করতে এখন অনেক পরিবারেরই ভরসা এয়ার কন্ডিশনার (এসি)। তবে এসি যত বেশি ব্যবহার হয়, ততই বাড়ে বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা। অনেকেই মনে করেন, রিমোটের পাওয়ার অফ বোতাম চাপলেই এসি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এতটা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করার পর বেশিরভাগ ইউনিট পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। এটি স্ট্যান্ডবাই মোডে চলে যায়। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেটি চলতে থাকলে মাস শেষে মোট খরচ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
কেন স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে এসি?
আধুনিক এসিতে বিভিন্ন স্মার্ট ফিচার থাকে। যেমন-রিমোটের সিগন্যাল গ্রহণ, মেমোরি ধরে রাখা, টাইমার চালু রাখা বা দ্রুত পুনরায় চালু হওয়ার প্রস্তুতি। এসব কারণে এসি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থাকে এবং সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
কী করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমবে?
আরও পড়ুনএসি দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ না করে সুইচ বোর্ডের মেইন সুইচও বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ খরচও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে যদি কিছুক্ষণ পর আবার এসি চালানোর পরিকল্পনা থাকে, তাহলে বারবার মেইন সুইচ বন্ধ-চালু করার প্রয়োজন নেই।
বজ্রপাত, ভোল্টেজ ওঠানামা বা দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকলে এসির মেইন সুইচ বন্ধ রাখা নিরাপদ। এতে বৈদ্যুতিক ঝুঁকি কমে এবং যন্ত্রের সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।
বিদ্যুৎ বিল কমাতে আরও কিছু কার্যকর উপায়
- এসির তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন।
- দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
- প্রতি কয়েক সপ্তাহ পরপর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
- ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটে ধুলো-ময়লা জমতে দেবেন না।
- ইনভার্টার এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় আরও বেশি হতে পারে।
রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করার পর সাধারণভাবে কম্প্রেসার বা আউটডোর ইউনিট ক্রমাগত চলতে থাকে না। তবে স্ট্যান্ডবাই মোডে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহার না করলে মেইন সুইচ বন্ধ রাখার অভ্যাস করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানো সম্ভব। পাশাপাশি যন্ত্রের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন

আইটি ডেস্ক







