বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তার পানি, লালমনিরহাট-নীলফামারীতে বন্যার শঙ্কা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে।
এর আগে গত ২৩ জুন তিস্তার পানি একবার বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দ্রুত তা নেমে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এবার আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং বেলা ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়। পরে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাটগ্রামের গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না ও ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুনবন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা বাদশা বলেন, দুই-তিন দিন আগে বাসা থেকে পানি নেমে গিয়েছিল। গতকাল রোববার আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বাড়িতে পানি ঢুকছে। রাতে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হতে পারে।
এব্যাপারে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপর পানি থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পানি কমার পর নদীভাঙনের ঝুঁকিও রয়েছে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে। সকলকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়াসহ কয়েকটি এলাকায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে বলেও জানান ওই প্রকৌশলী।
মন্তব্য করুন



_medium_1782745347.jpg)

_medium_1782744400.jpg)
_medium_1782743553.jpg)

