ভিডিও বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০২৬ ০৭:৪২ পিএম

আল বাইত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ, নবজাতকের পায়ের অংশ হারানোর দাবি পরিবারের

আল বাইত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ, নবজাতকের পায়ের অংশ হারানোর দাবি পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার আল বাইত হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, জন্মের পর চিকিৎসা চলাকালে শিশুটির পায়ে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পায়ের একটি অংশ অপসারণ করতে হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ জুন আল বাইত হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর চিকিৎসকরা তাদের জানান, ডায়াবেটিস আক্রান্ত মায়েদের নবজাতকের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে কারণে শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার পায়ে ক্যানোলা স্থাপন করে স্যালাইন দেওয়া হয়। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও কিছু সময় পর শিশুটির পা ফুলে যেতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের নজরে আনলেও তারা এটিকে স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

স্বজনরা জানান, একপর্যায়ে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের জটিলতার চিকিৎসা তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। পরে নবজাতককে দ্রুত অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আরও একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নবজাতককে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের দাবি, সংক্রমণ ও টিস্যু ক্ষতির কারণে চিকিৎসকদের শেষ পর্যন্ত শিশুটির পায়ের একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিক, শারীরিক ও আর্থিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে বলেও তারা জানান।

নবজাতকের বাবা তৌহিদ ইসলাম তপু বলেন, আমরা সুস্থ সন্তানকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের সন্তানকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিয়ে ছুটতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তার পায়ের একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি, পাশাপাশি চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি চাই।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আল বাইত হাসপাতালের ডিরেক্টর অব এডমিনিস্ট্রেশন মোহাম্মদ ইয়ার হোসেন খান বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষত এবং দুঃখজনক। নবজাতকের ওজন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ক্যানোলা লাগানোর জন্য উপযুক্ত শিরা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শিশুটির পায়ে ক্যানোলা স্থাপন করা হয় এবং সেটি স্থির রাখতে সার্জিক্যাল টেপ ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট নার্সের ভাষ্য অনুযায়ী সার্জিক্যাল টেপ ব্যবহারের কারণে পায়ের ওই অংশে এমন জটিলতা সৃষ্টি হতে যেটা তারা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাসপাতালের বিলের ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছি। চিকিৎসা শেষে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলে পরিবারকে হাসপাতালে এসে দেখা করার অনুরোধও জানিয়েছি।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: ফরিদা খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক করতোয়াকে বলেন “রোগীর সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। গত পরশুদিনও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সরাসরি আমাকে জানাবে। সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার কী প্রয়োজন?”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আল বাইত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ, নবজাতকের পায়ের অংশ হারানোর দাবি পরিবারের

বগুড়ার কাহালুতে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদককারবারি গ্রেফতার

শিগগিরই ফিরছেন না বুবলী

প্রস্তাবিত বাজেট গণবিরোধী ও ঋণনির্ভর : নাজিবুর রহমান

ফিফার নতুন নিয়মের কোপে আগেভাগেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল ৫ দল

ফেনীতে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, নিহত ২