বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল ১৫শ’ শয্যায় উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালকে ১৫শ’ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শজিমেক হাসপাতালের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম নুরুল ইরফান জানান, শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে পরিচালনা পর্ষদের ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাসপাতালটিকে ১ হাজার ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দশকে রোগীর সংখ্যা পাঁচগুণ বাড়লেও জনবল বাড়ানো হয়নি। বরং ২০০৬ সালে উদ্বোধনকালে হাসপাতালটির ৫শ’ শয্যা বা রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীর যতটি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল তার ১৪ শতাংশই এখনও ফাঁকা পড়ে আছে।
ফলে স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৫শ’ রোগীর যথাযথ চিকিৎসা সেবা যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি হাসপাতালের পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থাও রীতিমত ভেঙ্গে পড়েছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, সম্প্রতি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জনবল বৃদ্ধিসহ এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালটির সার্বিক চিকিৎসা সেবার মান কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে ওই হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ৫শ’ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে তাদেরকে হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরে অবস্থান করতে হচ্ছে। কিন্তু রোগী পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেলেও চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল একটিও বাড়ানো হয়নি। উল্টো ৫শ’ শয্যার বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া জনবলের মধ্যে ১৪ শতাংশ অর্থাৎ ১৮৭টি পদ শূণ্য পড়ে আছে।
১৮ জুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতালটিকে আরও সম্প্রসারিত করে সুপার স্পেশালাইজড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় হাসাপাতালের জন্য ৩০টি নতুন ডায়ালাইসিস যন্ত্র এবং কার্ডিয়াক সার্জারী, কিডনী, লিভার ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট স্থাপন এবং শিশুদের জন্য আইসিইউ নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন৪০ একর জায়গা নতুন করে অধিগ্রহণ করবে এমন পরিকল্পনার কথাও এসেছে। তবে সবার আগে চিকিৎসকের ২০টি শূন্যসহ ১৮৭ টি ফাঁকা পদ পুরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ১৫০০ শয্যায় উন্নীত করন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা হয়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠাকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩৮জন চিকিৎসক ও ৫৩২জন নার্সসহ মোট ১ হাজার ৩৪২জন কর্মকর্ত-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভৌগলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাসপাতালটিতে বগুড়ার পাশাপাশি জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে। মাত্র এক দশকেই রোগীর সংখ্যা মোট শয্যার প্রায় তিনগুণ অর্থাৎ দেড় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতে ২০১৯ সালে চিকিৎসক ও নার্সের নতুন পদ না বাড়িয়ে কেবল শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ২শ’ করা হয়।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ জানান, হাসপাতালটিকে ১৫শ’ শয্যায় উন্নীত করার জন্য আমরা অন্তবর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এরপর বর্তমান সরকার আসারও পরও একবার চিঠি দিয়েছি এবং ১৮ জুন হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় স্বাস্থ্য সচিবসহ প্রতিমন্ত্রীকে সরাসারি চিঠি দিয়েছি।
এই ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম নুরুল ইরফান জানান, ওই সভায় হাসপাতালটিকে ১ হাজার ৫শ’ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন







